Bengal Liberty : দুর্গাপুজো ঘিরে বাংলায় ধর্মীয় বিভাজনের ছায়া পড়েছে? বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে এমনই প্রশ্ন তুললেন মমতা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তিনি লিখেছন, দুর্গাপুজো কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের উৎসব নয়, বরং বাংলার সর্বজনীন উৎসব। নিজের এক্স পোস্টে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন, এবারের পুজোয় সার্বজনীন উৎসবকে ধর্মীয় পরিচয়ের গণ্ডিতে বাঁধার চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখা এবং বিভাজনের দেওয়াল ভেঙে একসঙ্গে চলার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
‘দুর্গাপুজো বাংলার, বাঙালির, সবার’, বিভাজন নিয়ে প্রশ্ন
বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে সামিরুল ইসলাম লিখেছেন, ছোটবেলা থেকে দুর্গাপুজো মানেই ছিল নতুন জামা, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ আর পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঠাকুর দেখা। তাঁর কথায়, “আমার কাছে দুর্গাপুজো কোনও দিনই শুধু হিন্দুদের উৎসব ছিল না। এই পুজো ছিল বাংলার, বাঙালির, সবার।” তবে এবারের পুজোয় বিভাজনের ছায়া দেখেছেন বলে দাবি করেছেন মমতা তৃণমূলের এই সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, সর্বজনীন উৎসবকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর মতে, পুজোর সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা, অংশগ্রহণ ও আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও আনন্দ বা উৎসবে যোগ দেওয়ার অধিকারকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।
সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখার বার্তা
বাংলার সামাজিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে সামিরুলের বক্তব্য, ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। ঈদ ও দুর্গাপুজোর মতো উৎসবে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই বাংলার সংস্কৃতি। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রতিমা বিসর্জন হয়, সম্পর্কের বিসর্জন হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, উৎসবের আনন্দ যেন ধর্মীয় বিভাজনের কারণে ম্লান না হয়ে যায়। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মাঝে কোনও দেওয়াল না তোলার বার্তাও দিয়েছেন সাংসদ।
আরও খবর
পোস্টের শেষে সামিরুল ইসলামের আহ্বান, বিভাজনের দেওয়াল ভেঙে আবারও পাশাপাশি দাঁড়াক বাংলা। ধর্ম থাকুক মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসে, রাজনীতি থাকুক তার নিজের জায়গায়। আর অটুট থাকুক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য। বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর বার্তা, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”


