Manoranjan Bapari
Bengal liberty Desk, ২০ ডিসেম্বর, কলকাতা: হুগলির বলাগড়ে দলীয় সভায় আমন্ত্রণ পাননি না দলেরই বিধায়ক। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বলাগড়ের (Balagarh) রাজনীতিতে তৃণমূলের (TMC) গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে ইতিমধ্যেই। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সভার পাল্টা হিসেবে বলাগড়ের মাজদিয়া একতারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা হয় গত বুধবার। অথচ সেই জনসভায় আমন্ত্রণ পাননি বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Monoranjan Bapari)। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জল্পনা। নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বিধায়ক।
আর এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে দলীয় সভায় আমন্ত্রণ না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন ‘ব্রাত্য’ মনোরঞ্জন। ‘জিভে তালা নেই’, তাই কি এ বার বাদ পড়তে হচ্ছে তাঁকে? বালি পাচার থেকে শুরু করে রেশন সামগ্রী চুরি- নিজের এলাকার যাবতীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে নিজের দলেরই একাংশের রোষানলে পড়লেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Byapari)। আজ, শনিবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ফেসবুকে তাঁর একটি দীর্ঘ পোস্ট ঘিরে হুগলি জেলা তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মনোরঞ্জনের ফেসবুক পোস্ট (Manoranjan Bapari)
এ দিন শুরুতেই ফেসবুক পোস্টে মনোরঞ্জন লেখেন, “ভাবছিলাম কথা গুলো লিখব না। কিন্তু অনেকেই এত জ্বালাতন করছে যে না লিখেও পারছি না।” ঠিক কাদের উদ্দেশ্যে বিনায়কের এই বার্তা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। তবে একটু পরেই বিধায়কের সংযোজন, “অনেকে বলছে, বলাগড়ের একই মাঠে দুটি মিটিং হয়ে গেল একটা বিজেপি একটা তৃণমূলের। আপনি বিধায়ক অথচ দুটোর কোনটায় আমন্ত্রন পেলেন না এটা কেমন কথা!”
এই প্রশ্নে বিধায়কের জবাব, তিনি তৃণমূল বিধায়ক তাই বিজিপির মিটিংয়ে তিনি আমন্ত্রন পাবেন না এটা স্বাভাবিক। আবার পেলেও যাবেন না এটাও জানা কথা। আর রইল বাকি তৃনমূল! ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে বিধায়কের বক্তব্য, গত সাড়ে চার বছর ধরে বলাগড়ের বুকে তিনি যে সব কাজ করে এসেছেন তাতে কি মনে হয় সেগুলো অঞ্চলের নেতাদের পক্ষে খুব সুখকর আনন্দদায়ক? এই প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক (Manoranjan Bapari) ।
সরকারি ত্রাণ বিলি নিয়ে বিস্ফোরক বিধায়ক (Manoranjan Bapari)
এর পরই নিজের দলের নেতাদের বিঁধে সরকারি ত্রাণ বিলি নিয়ে
বিধায়কের বিস্ফোরক মন্তব্য, “সরকারের কাছ থেকে যেসব ত্রিপল কম্বল কাপড় চোপড় পেয়েছি সেগুলো আমি কোন আঞ্চলিক নেতার হাতে না দিয়ে নিজে ঘুরে ঘুরে গরীব মানুষদের মধ্যে বিতরণ করেছি। নেতাদের কাছে ৫০ টা দিলে ৪০ টা নিজের জন্য রেখে দশটা বিলি করার এত কালের যে সুখ, সেই যে সুখ আনন্দ তা থেকে আমি তাদের বঞ্চিত করেছি। এটা একটা অপরাধ।”
বালি-মাটি মাফিয়াদের নিয়ে সরব মনোরঞ্জন (Manoranjan Bapari)
ফেসবুক পোস্টে বালি এবং মাটি মাফিয়াদের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন মনোরঞ্জন লিখেছেন, “চার বছর এলাকার মাটি কামড়ে পড়ে থেকে রাত জেগে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে অবৈধ মাটি উৎখনন বালি পাচার অনেকটাই রুখে দিতে সমর্থ হয়েছি।” আগে মাটির রাজস্ব বাবদ বছরে সরকারি কোষাগারে মাত্র ২০-২৫ লক্ষ টাকা জমা পড়ত। তাঁর নজরদারিতে সেই অঙ্ক পৌঁছেছে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায়। বিধায়কের প্রশ্ন, মাঝের এই কয়েক কোটি টাকা আগে কার পকেটে যেত?
ঠোঁটকাটা মনোরঞ্জন (Manoranjan Bapari)
বিগত কয়েক মাস ধরেই দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বা মিটিংয়ে দেখা যায়নি বলাগড়ের বিধায়ককে। সেই ধোঁয়াশাও নিজেই পরিষ্কার করলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তাঁর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, “ওই সব মিটিংয়ে গেলে আমি মুখ খুলবই। আমার জিভে কোনো তালা দেওয়া নেই। আমি সত্য বললে নেতারা বিড়ম্বনায় পড়বে, তাই আমাকে আর ডাকা হয় না।” গরু পাচার, গাঁজা পাচার এমনকি সবুজদ্বীপের গাছ চুরির বিরুদ্ধেও তিনি যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তাতে যারা ‘আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে, তারাই আজ তাঁর বিরুদ্ধে একজোট বলে মনে করছেন বিধায়ক।
‘টিকিট’ প্রসঙ্গে কী বললেন বিধায়ক?(Manoranjan Bapari)
সবশেষে নিজেকে ‘তুচ্ছ’ বলে দাবি করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বিধায়ক লেখেন, বিধায়ক হওয়ার মত কোনও যোগ্যতা তাঁর ছিলনা।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন নিষ্ঠা সহকারে, সততার সঙ্গে গত সাড়ে চার বছর সেই দায়িত্ব পালন করে এসেছেন তিনি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘টিকিট’ পাওয়ার প্রসঙ্গে বিধায়ক জানান, ‘উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) দিলে দেবেন না দিলে না দেবেন। এর জন্য তাঁর কোন দুঃখ বা আক্ষেপ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

