India vs Pakistan in T20 World Cup
Bengal Liberty, কলম্বো:
মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের বিতর্কে উত্তপ্ত ছিল আবহাওয়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে(India vs Pakistan in T20 World Cup) ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছিল পাকিস্তান। দীর্ঘ আট দিনের টানাপড়েন শেষে তারা মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিলেও, রবিবারের পারফরম্যান্স দেখে মনে হল— হয়তো বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেই সম্মান বাঁচত বাবর আজমদের (যদিও অধিনায়ক হিসেবে এখন আঘা সলমন)। মাঠের লড়াইয়ে কার্যত উড়ে গেল পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি সাক্ষাতের ফল এখন ভারতের পক্ষে ৮-১। এই জয় শুধু পরিসংখ্যানের উন্নতি নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের আধিপত্যের এক নতুন দলিল।

কলম্বোর মন্থর পিচে ঈশানের অবিশ্বাস্য ‘অগ্নিবৃষ্টি’ (India vs Pakistan in T20 World Cup)
টসের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল কলম্বোর উইকেট। সাধারণত এখানকার পিচ মন্থর গতির হয়, যেখানে বল ব্যাটে আসতে সময় নেয়। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টও এই পিচ নিয়ে চিন্তিত ছিল। কিন্তু সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিলেন ঈশান কিশান। ভারতীয় দলে ফেরার পর থেকেই তিনি ছন্দে ছিলেন, কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ইনিংসটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা হয়ে থাকবে।
শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো বিশ্বমানের বোলারকে প্রথম থেকেই আক্রমণ করার ঝুঁকি নিয়েছিলেন ঈশান। শাহিনকে ছক্কা মেরে শুরু করা সেই ইনিংস যত এগিয়েছে, ঈশানের আগ্রাসন তত বেড়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের স্পিনাররা যখন পিচ থেকে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন ঈশান তাঁদের লেংথ নিয়ে রীতিমতো ছিনিমিনি খেললেন। ঝাড়খণ্ডের এই ব্যাটারের আত্মবিশ্বাস এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, মন্থর পিচকেও তাঁর কাছে ব্যাটিং স্বর্গ মনে হচ্ছিল। ভারতের বড় রানের ভিত একা হাতেই গড়ে দেন তিনি।

সূর্য-তিলকের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং ও শিবম-রিঙ্কুর ফিনিশিং(India vs Pakistan in T20 World Cup)
ঈশান যখন ধ্বংসলীলা চালাচ্ছেন, অন্যপ্রান্তে সূর্যকুমার যাদব এবং তিলক বর্মা বুঝতে পেরেছিলেন যে এই পিচে সবার পক্ষে ওভাবে খেলা সম্ভব নয়। তাঁরা ঝুঁকি না নিয়ে খুচরো রান নেওয়ায় মন দেন। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ৩৮ রানের জুটিটি ম্যাচের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, এই জুটিটিই নিশ্চিত করেছিল যে রানরেট যেন পড়ে না যায়।
ইনিংসের শেষ বেলায় ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব তুলে নেন শিবম দুবে এবং রিঙ্কু সিংহ। শিবম ১৭ বলে ২৭ রান করে ভারতের স্কোরবোর্ডকে গতি দেন। রিঙ্কু মাত্র ৪ বল খেলার সুযোগ পেলেও ১১ রান করে বুঝিয়ে দেন কেন তাঁকে সেরা ফিনিশার বলা হয়। শেষ দিকে শাহিন আফ্রিদির ওভারে ১৬ রান তুলে ভারত লড়াই করার মতো চ্যালেঞ্জিং স্কোর খাড়া করে।

বুমরাহ-হার্দিকের দাপটে শুরুতেই তাসের ঘর পাকিস্তান(India vs Pakistan in T20 World Cup)
রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল একটি বিস্ফোরক শুরু। কিন্তু কলম্বোর কঠিন উইকেটে ভারতীয় বোলাররা তাঁদের সেই সুযোগটুকুও দেননি। হার্দিক পাণ্ড্য তাঁর চতুর্থ বলেই সাহিবজ়াদা ফারহানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ সাইম আয়ুবকে এক নিখুঁত ইয়র্কারে পরাস্ত করেন জসপ্রীত বুমরাহ।
বুমরাহ ও হার্দিকের প্রথম স্পেল পাকিস্তান টপ অর্ডারকে এমনভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছিল যে, তার থেকে বেরিয়ে আসা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন ধুঁকছে, তখনই আঘা সলমন একটি আলগা শট খেলে হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন। ম্যাচের ফল কার্যত ওখানেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।

And the story continues…
🇮🇳 Team too superior. Crushed Pakistan absolutely in the T20 World Cup.
And it’s not the only Victory of the day !
Earlier in the day, the Indian Women’s Team also beat the Pakistani Team in Women’s Asia Cup Rising Stars Tournament. So a double… pic.twitter.com/oZ6CLSXoqs— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) February 15, 2026
সলমনের ভুল চাল বনাম সূর্যের মগজাস্ত্র(India vs Pakistan in T20 World Cup)
অধিনায়ক হিসেবে আঘা সলমন এদিন অদ্ভুত কিছু সিদ্ধান্ত নেন। পাকিস্তানের পাঁচজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে প্রথম ওভার করতে আসেন। যদিও অভিষেক শর্মার উইকেট তুলে নিয়ে তিনি চমক দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় ভুলটি ছিল মারাত্মক। ইনিংসের শেষ ওভারে অভিজ্ঞ শাহিন আফ্রিদির হাতে বল তুলে দেওয়া। অথচ শাহিন সেই ওভারে ১৬ রান দিয়ে বসেন, যা ভারতের রানকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদব ছিলেন শান্ত ও দূরদর্শী। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম এক ইনিংসে ছয়জন স্পিনার ব্যবহার করে নজির গড়ল পাকিস্তান, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হল না। সূর্যকুমার প্রথম চার ওভার জোরে বোলারদের দিয়ে করানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।

সুপার এইটে সূর্যোদয়(India vs Pakistan in T20 World Cup)
৬১ রানের এই বিশাল জয় ভারতের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় সবসময়ই বিশেষ, কিন্তু যেভাবে একপেশেভাবে এই জয় এল, তা প্রমাণ করে যে ভারতীয় দল এখন যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। একদিকে ঈশানের ব্যাটে রানের ফল্গুধারা, অন্যদিকে বুমরাহ-হার্দিকদের নিখুঁত বোলিং— সব মিলিয়ে কলম্বোর আকাশে এখন শুধুই নীল রঙের উৎসব। সুপার এইটে ভারত প্রবেশ করল এক অপরাজেয় মানসিকতা নিয়ে, আর পাকিস্তান পড়ে রইল তাদের একরাশ ব্যর্থতা আর পরিসংখ্যানের বোঝা নিয়ে।
