Fourth Pillar of Democracy
Fourth Pillar of Democracy

Fourth Pillar of Democracy: গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ কি বিপন্ন? সন্তু পান থেকে বেলডাঙ্গার সাংবাদিক নিগ্রহ—অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলার সাংবাদিকতা

Bengal Liberty, সিদ্ধার্থ দে, Kolkata:

সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ: বাংলার গণতন্ত্র কি আজ বিপন্ন?(Fourth Pillar of Democracy)

পশ্চিমবঙ্গ—যাকে একসময় ভারতের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার কেন্দ্রবিন্দু বলা হতো, আজ সেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা (Fourth Pillar of Democracy)এক অন্ধকার অধ্যায়ের সম্মুখীন। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক সন্তু পানকে পুলিশের তলব এবং বেলডাঙ্গায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রমাণ করছে যে, বর্তমান শাসনামলে সত্য বলা বা প্রশ্ন করা এক বিপজ্জনক অপরাধে পরিণত হয়েছে।

Fourth Pillar of Democracy
Fourth Pillar of Democracy

সন্তু পানের ‘অপরাধ’: প্রশ্ন করার সাহস(Fourth Pillar of Democracy)

সাংবাদিক সন্তু পানকে(Santu Pan) পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? কোনো দুর্নীতি বা আইনভঙ্গ নয়, বরং তাঁর তথাকথিত ‘অপরাধ’ হলো তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন করার সাহস দেখিয়েছেন।
তিনি জানতে চেয়েছিলেন সেই দিনটির কথা, যেদিন মুখ্যমন্ত্রী একটি বেসরকারি সংস্থার অফিসে ঢুকেছিলেন—যে সংস্থার বিরুদ্ধে কয়লা পাচার এবং অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেই অফিস থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে চলে এসেছিলেন। একজন সাংবাদিকের কাজই হলো ক্ষমতার অলিন্দে লুকিয়ে থাকা সত্যকে জনসমক্ষে আনা। কিন্তু বাংলায় আজ সেই মৌলিক দায়িত্ব পালন করলেই জুটছে পুলিশি সমন। এটি পরিষ্কারভাবে সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার একটি পরিকল্পিত কৌশল।

Santu Pan
Santu Pan

বেলডাঙ্গার রণক্ষেত্র: আক্রান্ত সত্যের সন্ধানী সংবাদকর্মীরা(Fourth Pillar of Democracy)

সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণের ধারা শুধু আইনি নোটিশেই সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন রাজপথে শারীরিক নিগ্রহের রূপ নিয়েছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কভার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং এবিপি আনন্দর সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ।
মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যখনই শাসকের ব্যর্থতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ক্যামেরার সামনে আসার উপক্রম হয়, তখনই সংবাদকর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে। সোমা মাইতি বা পার্থপ্রতিম ঘোষের মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ আসলে বাংলার সাধারণ মানুষের ‘জানার অধিকার’-এর ওপর আক্রমণ।

 

Beldanga Incident
Beldanga Incident

সাংবাদিকতা কি এখন দণ্ডনীয় অপরাধ?(Fourth Pillar of Democracy)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে। এখানে সাংবাদিকতাকে পেশা নয়, বরং অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
* প্রশ্ন করলে সমন: মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারকে প্রশ্ন করলেই পুলিশের তলব আসছে।
* পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা: অশান্ত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে শারীরিক হামলা এবং হেনস্তা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
* ভয়ের পরিবেশ: আইনি মারপ্যাঁচ এবং শারীরিক ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের আত্মনিয়ন্ত্রণে (Self-censorship) বাধ্য করা হচ্ছে।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে সেই গণতন্ত্রের কঙ্কালসার চেহারাটাই বেরিয়ে আসে। সন্তু পানের ওপর পুলিশি চাপ কিংবা বেলডাঙ্গায় সাংবাদিকদের রক্তপাত—সবই একই সূত্রে গাঁথা। ক্ষমতার দম্ভে যখন প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
বাংলা আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রশ্ন করা মানেই ‘শত্রু’ হওয়া, আর সত্য বলা মানেই পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার এই করুণ দশা কি আদৌ একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের পরিচয়? সময় এসেছে সাধারণ মানুষকেও এই কণ্ঠরোধের রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।

Fourth Pillar of Democracy
Fourth Pillar of Democracy

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury