Bengal Liberty : দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে আনাজের চড়া দাম নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। এরই মধ্যে আজ, রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে ধনদেবীর আরাধনায় মিষ্টি, নাড়ু, লুচি, খিচুড়ি ও পাঁচমিশালি তরকারি তৈরির রীতি রয়েছে। কিন্তু পুজোর বাজার করতে গিয়ে আনাজের দামে কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের। ইচ্ছা থাকলেও বাজেটের চাপে অনেক কিছুই বাদ দিতে হচ্ছে।
কলকাতার বিভিন্ন বাজারের খুচরো বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই এক কেজি বেগুন কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যোগ করে সেই বেগুনই খুচরো বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে। শ্যামবাজার, মানিকতলা, গড়িয়াহাট, লেক মার্কেট ও বাঘাযতীন বাজারে আদা, কাঁচালঙ্কা-সহ বিভিন্ন আনাজ কিনতেও পকেটে টান পড়ছে।
নতুন আদা ১০০ গ্রাম ২৫ টাকা এবং পুরনো আদা ১০০ গ্রাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ, উচ্ছে, ঝিঙে ও বরবটির দাম কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। মাঝারি আকারের একটি ফুলকপির দাম ৬০ টাকা। বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ টাকায়। একটি নারকেল কিনতেও খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ফলে বাঙালির ঘরোয়া খাবারের আয়োজন করতেও নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের।
আরও খবর
শুধু তা-ই নয়, কলকাতার বিভিন্ন বাজারে একই আনাজের দামেও পার্থক্য রয়েছে। মানিকতলা ও গড়িয়াহাট বাজারের দামের তুলনাতেই তা স্পষ্ট। মানিকতলায় জ্যোতি আলু কেজিপ্রতি ১৫ টাকা এবং চন্দ্রমুখী আলু ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেখানে গড়িয়াহাটে ওই দুই ধরনের আলুর দাম যথাক্রমে ১৭ ও ২২ টাকা। মানিকতলায় পটল কেজিপ্রতি ৭৫ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৭০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা এবং সিম ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, গড়িয়াহাটে পটলের দাম ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৭৫ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, ঝিঙে ৭৫ টাকা এবং সিম ২০০ টাকা কেজি। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে মানিকতলায় ৬০ টাকা এবং গড়িয়াহাটে ৬৫ টাকা দরে।
এক ক্রেতার কথায়, লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে খিচুড়ি ও পাঁচমিশালি তরকারি রান্নার পরিকল্পনা থাকলেও আনাজের চড়া দামের কারণে কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হয়েছে। উৎসবের দিনেও বাজারদরের এই ঊর্ধ্বগতিতে চিন্তা বাড়ছে সাধারণ গৃহস্থের।


