Bengal Liberty : আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের সভা ঘিরে নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক কড়া শর্ত আরোপ করল দিল্লি পুলিশ। ‘চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ’ নামে এই কর্মসূচিতে শর্তসাপেক্ষে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে সভা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহির দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। সভা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, বক্তৃতা এবং যানবাহন চলাচল নিয়ে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শর্ত ভাঙলে অনুমতি বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৫টার মধ্যে সভা শেষ করতে হবে
দিল্লি পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, ১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যেই সভা শেষ করতে হবে। এরপর দ্রুত অংশগ্রহণকারীদের মাঠ ছাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই কর্মসূচির সময় বাড়ানো যাবে না। সভার আগে বা পরে রামলীলা ময়দানে রাত কাটানোর অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিশাল জমায়েত সামলাতে প্রায় ৩৫০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোটা এলাকা নজরদারিতে রাখতে ব্যবহার করা হবে ২০০-র বেশি CCTV ক্যামেরা। প্রবেশ ও বেরনোর পথ, মঞ্চ, বসার জায়গা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা বসাতে হবে। অন্তত পাঁচটি মনিটর-সহ পৃথক কন্ট্রোল রুম রাখাও বাধ্যতামূলক। ভিড় নিয়ন্ত্রণে এলাকাকে ১৪টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি থাকবে রিজার্ভ বাহিনী, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং বিশেষ নজরদারির গাড়ি।
উস্কানিমূলক মন্তব্যে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
রামলীলা ময়দানের বাইরে অন্য কোনও জায়গার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়া যাবে না। সভায় এমন কোনও বক্তব্য রাখা চলবে না, যা জাতি, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি কিংবা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। কোনও বক্তা উস্কানিমূলক বা ভয় দেখানোর মতো মন্তব্য করলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে তাঁকে মঞ্চ থেকেও সরিয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি সভায় আসা বাস ও অন্যান্য যানবাহন ট্র্যাফিক পুলিশের নির্ধারিত জায়গায় পার্ক করতে হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, শৌচাগার এবং মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভিড়ের মধ্যে সাহায্যের জন্য চিহ্নিত স্বেচ্ছাসেবকও মোতায়েন করতে হবে।
আরও খবর
আয়োজকদের জমা দিতে হবে বিস্তারিত তথ্য
সভায় আমন্ত্রিত ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা, মিনিটে-মিনিটে কর্মসূচির বিবরণ এবং বাসের রেজিস্ট্রেশন নম্বর-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে আয়োজকদের। সভায় মোতায়েন পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেও কাজ করতে হবে। তবে পুলিশের NOC-ই চূড়ান্ত অনুমতি নয়। জমির মালিকানা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পুলিশের সমস্ত নির্দেশ মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনও শর্ত লঙ্ঘিত হলে অনুমতি প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, SIR প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির দাবিতে এই সভার ডাক দিয়েছে ইন্ডি জোটের শরিক দলগুলি। সভার অনুমতি নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ উঠলেও দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সমস্ত শর্ত মানতে হবে। অন্যথায় NOC বাতিল-সহ কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে


