Bengal Liberty : পশ্চিম মেদিনীপুরে খ্রিস্টান পরিবারের উপর হামলা এবং জোর করে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সরব হল কংগ্রেস। চন্দ্রকোনা থানার অন্তর্গত পাটলাপুর গ্রামে তিনটি খ্রিস্টান পরিবারের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকেও। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ, গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর দুর্গাপুজোর সময় পাটলাপুর গ্রামের তিনটি খ্রিস্টান পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হেনস্থা করা হয়। পাশাপাশি, তাঁদের ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত একদল ব্যক্তি ওই পরিবারগুলির বাড়িতে ঢুকে তাঁদের খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করতে বলেন বলে অভিযোগ। তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। এক মহিলার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি জ্ঞান হারান। মহিলাদের পোশাক খুলে হেনস্থা করার চেষ্টা এবং ১৫ বছরের এক কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন কংগ্রেস নেতা।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর ওই পরিবারগুলিকে পার্শ্ববর্তী ডিঙ্গল গ্রামের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকলের সামনে তাঁদের অঞ্জলি দিতে এবং তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের কাছে গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। বেণুগোপালের অভিযোগ, প্রথম দিন পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। পরে এক আইনজীবীর হস্তক্ষেপে ২০ অক্টোবর ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এফআইআর দায়ের করা হয়।
আরও খবর
চিঠিতে বেণুগোপাল আরও দাবি করেছেন, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টানদের নিশানা করে অন্তত ৬০টি ঘটনার নথি সংগ্রহ করেছে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মবিশ্বাস পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কাউকে জোর করে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকারের পরিপন্থী।
দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবের সময় এ ধরনের ঘটনা বাংলার সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বেণুগোপাল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রযোজ্য ধারায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


