Bengal Liberty : ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে কোনও ভূমিকা ছিল না। দিল্লি হাই কোর্টে এই দাবি করেও স্বস্তি পেলেন না নেহা বোরা। স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিল হাই কোর্ট। ফলে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মতো নেহাকেও শান্তিরক্ষার মুচলেকা দিতে হবে। পাশাপাশি জমা দিতে হবে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড। তবে নেহার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও তার সমর্থনে পেশ করা নথি তাঁকে জানাতে হবে বলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিক্ষোভের আগে আটক, পরে মুচলেকার নোটিস
গত ১৬ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের আগে আটক করা হয় নেহা বোরাকে। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের মতো তাঁকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হয়নি। কিন্তু মুক্তির পরেও স্বস্তি মেলেনি। দিল্লির স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তরফে তাঁকে একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শান্তিভঙ্গ এবং আইন ভেঙে জমায়েতের ডাক দেওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়।
হাই কোর্টে আর্জি খারিজ, কী বলল পুলিশ?
ম্যাজিস্ট্রেটের ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন নেহা। তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, ১৬ অক্টোবরের বিক্ষোভে নেহার কোনও ভূমিকা ছিল না। তিনি কোনও আইন ভাঙেননি বা শান্তিভঙ্গও করেননি। সেই কারণেই তাঁকে মাত্র ১৫-১৬ মিনিট আটক রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আইনজীবী। অন্যদিকে, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পালটা দাবি করা হয়, নেহা বারবার প্রকাশ্যে সরকার বদলের হুমকি দিয়েছেন। জমায়েত ও বিক্ষোভে উসকানিও দিয়েছেন তিনি। নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে একাধিক ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আদালতে পেশ করে সরকার।
আরও খবর
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর নেহার আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। আদালত জানিয়ে দেয়, নিজের বক্তব্য তাঁকে স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতেই জানাতে হবে। একই সঙ্গে নেহার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং তার সমর্থনে পেশ করা নথির বিবরণ তাঁকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে হাই কোর্ট। ফলে আপাতত ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিরক্ষার মুচলেকা দেওয়া এবং ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে নেহার।


