Mithun on Mamata Banerjee & Bangladesh
Bengal liberty Desk, ২১ ডিসেম্বর, কলকাতা: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল ভারত। পড়শি দেশে ক্রমবর্ধমান হিংসা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার স্পষ্ট দাবি জানিয়েছে ভারত (India on Bangladesh)।
কী জানাল ভারত? (India on Bangladesh)
রবিবার ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaswal) এক বিবৃতিতে জানান,“বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর ভারত নিবিড় নজর রাখছে। সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আধিকারিকদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সংখ্যালঘুদের উপর যেভাবে হামলার ঘটনা সামনে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দীপুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দোষীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে এই বার্তা বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।”

ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে অশান্তি বাংলাদেশে: গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে অশান্তি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি ভবন, সংবাদপত্রের দফতর এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
এই আবহেই ময়মনসিংহে ২৭ বছরের দীপুচন্দ্র দাসের (Dipuchandra Das) হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত দীপুকে উন্মত্ত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভয়াবহ দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখান একদল যুবক। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভুয়ো ও অতিরঞ্জিত খবর ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন,
“দূতাবাসের সামনে ২০–২৫ জন বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। দূতাবাসে জোর করে প্রবেশের কোনও চেষ্টা হয়নি। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভারতের মাটিতে অবস্থিত যে কোনও বিদেশি দূতাবাস ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দীপু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং পুলিশ প্রশাসন পৃথক বিবৃতিতে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। ভারত সেই মানবিক উদ্বেগ থেকেই এবার সরাসরি বার্তা দিল ঢাকাকে।
