HC on BJP Nabanna dharna
Bengal liberty Desk, ১৬ জানুয়ারি, কলকাতা: নবান্নের সামনে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (HC on BJP Nabanna dharna) প্রস্তাবিত নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছেই (যা নবান্নর পিছনের দিকে) বিজেপি ধর্না কর্মসূচি সংগঠিত করতে পারবে, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট (HC on BJP Nabanna dharna)। বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের (HC on BJP Nabanna dharna) করা মামলার প্রেক্ষিতে গতকাল, বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ (HC on BJP Nabanna dharna)। রাজ্যের যুক্তি ছিল নবান্ন ‘হাইসিকিউরিটি জোন’ (HC on BJP Nabanna dharna) তাই সেখানে সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের যুক্তিতেই সম্মতি দেন বিচারপতি। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি নবান্নের সামনে বিজেপির ধর্না অবস্থানের আঁচ আগে থেকেই টের পেয়ে ভয় পেয়েছে রাজ্য-প্রাশাসন (HC on BJP Nabanna dharna)?
ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ বিজেপি (HC on BJP Nabanna dharna)

১৬ জানুয়ারি অর্থাৎ আজ, শুক্রবার নির্ধারিত দিনে ধর্না কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ালো বিজেপি (HC on BJP Nabanna dharna)। দু’পা পিছিয়ে নয় বরং আরও একধাপ এগিয়ে এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল বিজেপি (HC on BJP Nabanna dharna)। কারণ, নবান্নের সামনেই ধর্নায় বসতে অনড় বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী (HC on BJP Nabanna dharna)। এদিন হাই কোর্টে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ (HC on BJP Nabanna dharna) বলেন, “বিজেপি বিধায়কেরা নবান্নের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি (HC on BJP Nabanna dharna) করার অনুমতি চেয়েছিলেন। এই ন্যায্য গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করছি। যত দ্রুত সম্ভব ডিভিশন বেঞ্চের (HC on BJP Nabanna dharna) দ্বারস্থ হব।”
রাজ্য বিজেপির এক সূত্রের খবর, বিজেপির আবেদন গ্রহণ করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ (HC on BJP Nabanna dharna)। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি (HC on BJP Nabanna dharna)!
রায়ের মূল কারণ ও নির্দেশিকা (HC on BJP Nabanna dharna)-
নিরাপত্তাজনিত কারণ (HC on BJP Nabanna dharna): পুলিশ কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল যে নবান্ন রাজ্য সচিবালয় এবং এটি একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল, যেখানে সাধারণত কোনও রাজনৈতিক সভা বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয় না। অতীতেও হাই কোর্ট এই এলাকায় বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি।
যান চলাচল ব্যাহত (HC on BJP Nabanna dharna): পুলিশ আরও জানায় যে, নবান্ন একটি খুব ব্যস্ত এলাকা এবং এখানে বিক্ষোভের অনুমতি দিলে সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হবে, যা স্কুল ছাত্রছাত্রী, অফিস যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করবে।
গঙ্গা সাগর মেলা (HC on BJP Nabanna dharna): ১৬ই জানুয়ারি অর্থাৎ আগামীকাল গঙ্গাসাগর মেলার কারণে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী হাওড়া স্টেশন, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিদ্যাসাগর সেতু দিয়ে যাতায়াত করবেন। এই সময়ে কোনও বিক্ষোভ জননিরাপত্তার জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
আইনি ব্যবস্থা (HC on BJP Nabanna dharna): ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নবান্নের সামনের ওই এলাকায় বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।
বিকল্প স্থানে অনুমতি (HC on BJP Nabanna dharna): আদালত পুলিশের দেওয়া কারণগুলিকে ‘যুক্তিযুক্ত’ বলে মনে করে এবং নবান্নের পরিবর্তে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে একই দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বিক্ষোভ করার অনুমতি দেয়।
কী কী শর্তাবলী (HC on BJP Nabanna dharna)?
- আদালত এই অনুমতির সঙ্গে কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।
- বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বিধায়কের সংখ্যা ৫০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
- বিক্ষোভের জন্য কোনও মঞ্চ তৈরি হলে তা ১২ ফুট বাই ১৫ ফুটের বেশি বড় হতে পারবে না।
- বিক্ষোভের জেরে সাধারণ মানুষ বা যান চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
- বিক্ষোভ চলাকালীন কোনো উস্কানিমূলক বা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
- কোনও মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দ দূষণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
- অন্তত ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও মোবাইল নম্বর পুলিশকে জানাতে হবে। যারা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবেন
- বিক্ষোভ শেষ হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের সরে যেতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থানটি পরিষ্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে (HC on BJP Nabanna dharna)।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বেআইনি কাজের ক্ষেত্রে সমতার অধিকার দাবি করা যায় না। এর মধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে বিজেপি (HC on BJP Nabanna dharna)।
