YouTuber Prahlad Maity Arrested
Bengal Liberty Desk, ৫ মার্চ, কলকাতা: আবারও গ্রেফতার হল এক ইউটিউবার। আরামবাগ টিভির শাফিহুল ইসলাম থেকে প্রিয় ভিন্স আর সম্প্রীতি শমীক অধিকারী—বারবার পুলিশের টার্গেটে জনপ্রিয় ইউটিউবাররা। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেই আবারও সেই একই ছবি। আরেক জনপ্রিয় ইউটিউবার প্রহ্লাদ মাইতি ওরফে ‘বিষাক্ত ছেলে’-কে গ্রেফতার করল বসিরহাট থানার পুলিশ।
কী ঘটেছে (YouTuber Prahlad Maity Arrested)?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-কে নিয়ে একটি ভিডিয়ো ফেসবুকে পোস্ট করেন প্রহ্লাদ মাইতি। সেখানে খামেনেইয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল হচ্ছে, বাসে আগুন লাগানো হচ্ছে, বহু মুসলিম মহিলা চোখের জল ফেলছেন—এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই প্রহ্লাদ একটি ভিডিয়ো বানান। ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়, আর তাতেই বাধে বিপত্তি। বসিরহাটের কিছু মুসলিম সম্প্রদায়ের গোষ্ঠী প্রহ্লাদের বিরুদ্ধে FIR করে। এরপরই তড়িঘড়ি অ্যাকশনে নামে পুলিশ, গ্রেফতার করা হয় প্রহ্লাদকে।
পুলিশের বক্তব্য (YouTuber Prahlad Maity Arrested)
পুলিশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই ভিডিওটি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সামাজিক অশান্তি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। সেই কারণেই দ্রুত পদক্ষেপ করে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (YouTuber Prahlad Maity Arrested)
প্রহ্লাদ মাইতির গ্রেফতারির পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, রাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুতর ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আরজি কর হাসপাতাল সংক্রান্ত ঘটনা, সন্দেশখালি ইস্যু, কসবা এলাকার একটি কলেজে ধর্ষণের অভিযোগ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলনের সময় বাস-ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনার মতো নানা ক্ষেত্রে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এছাড়াও হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ।
কিছু মানুষের দাবি, মুর্শিদাবাদের একটি সহিংস ঘটনার সময় স্থানীয়রা পুলিশের সাহায্য চাইলে দেরিতে সাড়া পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রহ্লাদ মাইতির দ্রুত গ্রেফতারিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যেখানে প্রশ্ন ওঠে, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ক্ষেত্রে এত দ্রুত পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল।
‘স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’ এর সঙ্গে তুলনা (YouTuber Prahlad Maity Arrested)!
একসময় কলকাতা পুলিশকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ‘স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’ এর সঙ্গে তুলনা করা হতো। বলা হতো, যে মামলার নিষ্পত্তি স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাধ্যের বাইরে, সেই মামলার নিষ্পত্তি কলকাতা পুলিশ করে দেবে। কিন্তু বর্তমানে চিত্রটা পুরোপুরি আলাদা।
আরও পড়ুন (YouTuber Prahlad Maity Arrested)
শমীক মামলার কড়া পদক্ষেপ,১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাস্টডির নির্দেশ আদালতের! (Social Media Influencer Arrest)
‘চ্যাট দেখেই রেগে গিয়ে একটা চড় মারে শমীক’, পরিবারের দাবি ঘিরে নতুন মোড় (Shamik Adhikari family claims), শাসকদলের ভূমিকা নিয়েও উঠছে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র প্রশ্ন!
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের দাবি সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রহ্লাদ মাইতির সমর্থকদের বক্তব্য মত প্রকাশের অধিকারকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, আদালতে কী সিদ্ধান্ত হয় এবং এই গ্রেফতারিকে ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তা কতটা বিস্তৃত হয় সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।
