National parties income 2024-25
Bengal Liberty, ৭ মার্চ :
ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অর্থের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে (National parties income 2024-25)। নির্বাচনী প্রচারের ধরন বদলেছে, বেড়েছে প্রযুক্তি নির্ভর প্রচার, সামাজিক মাধ্যমের বিজ্ঞাপন এবং বৃহৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির খরচ। ফলে রাজনৈতিক দলগুলির আয় ও ব্যয়ের অঙ্কও ক্রমশ বাড়ছে (National parties income 2024-25)। এই প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক সংস্কার বিষয়ক সংগঠনের (এডিআর) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দেশের জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক অবস্থার একটি স্পষ্ট চিত্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের ৬ টি জাতীয় রাজনৈতিক দলের মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৯৬০ কোটি টাকা।একই সময়ে এই দলগুলির মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫২০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আয় ব্যয়ের তুলনায় বেশি হলেও কিছু দলের ক্ষেত্রে আবার ব্যয় আয়ের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।নির্বাচনী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং প্রচারের আধুনিক পদ্ধতির কারণে রাজনৈতিক দলগুলির ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

আয় ও ব্যয়ে শীর্ষে বিজেপি, পিছিয়ে অন্যান্য দল (National parties income 2024-25)
তথ্য অনুযায়ী, আয় ও ব্যয়ের দিক থেকে অন্য সব দলের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি । ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দলটির মোট আয় ৬৭৬৯.১৪ কোটি টাকা, যা বাকি জাতীয় দলের মোট আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ। একই সময়ে বিজেপির মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৭৭৪.৫৮ কোটি টাকা।
অন্যদিকে Indian National Congress (INC)-এর মোট আয় ছিল ৯১৮.২৮ কোটি টাকা, কিন্তু ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১১১.৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় প্রায় ১৯৩ কোটি টাকা বেশি খরচ করেছে দলটি।
একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে Communist Party of India (CPIM) এবং Bahujan Samaj Party (BSP) -এর ক্ষেত্রেও, যেখানে ব্যয় সামান্য হলেও আয়ের তুলনায় বেশি হয়েছে।
অন্যদিকে Aam Aadmi Party (AAP) এবং National People’s Party (NPP) আয়ের তুলনায় কম ব্যয় করেছে। এএপি-র আয় প্রায় ৩৯.২৮ কোটি টাকা, ব্যয় ৩৬.৪৬ কোটি টাকা। আর এনপিপি-র আয় ২.১৮ কোটি টাকা, ব্যয় প্রায় ১.১৯ কোটি টাকা।

ডোনেশনই প্রধান ভরসা, নির্বাচনী প্রচারেই সর্বাধিক ব্যয় (National parties income 2024-25)
তথ্যানুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস এখনও ডোনেশন বা অনুদান। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জাতীয় দলগুলির মোট আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই এসেছে অনুদান থেকে।
বিজেপির ক্ষেত্রে মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে ডোনেশনের মাধ্যমে। একইভাবে NPP- এর এবং আপ-এর আয়ের প্রায় পুরোটাই অনুদান নির্ভর।
অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে কুপন বিক্রি ও সদস্য ফি থেকে। আর বহুজন সমাজ পার্টি তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ পেয়েছে ব্যাংকের সুদ ও সদস্যপদ ফি থেকে, ডোনেশন থেকে নয়।
ব্যয়ের খাতেও একটি স্পষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়- প্রায় সব দলই সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে নির্বাচনী প্রচার ও নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে। বিজেপির ক্ষেত্রে এই খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৩৩৫ কোটি টাকার বেশি, যা দলের মোট ব্যয়ের বড় অংশ। অন্যদিকে কংগ্রেসও প্রায় ৮৯৬ কোটি টাকা নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যয়ে খরচ করেছে।
RN Ravi: নতুন রাজ্যপালের রেকর্ড দেখে মাথায় হাত মমতার@bengalliberty @MamataOfficial @AITCofficial @SuvenduWB @BJP4Bengal @BJP4India #bengalliberty #MamataBanerjee #TMC #suvenduadhikari #BJP #RNRavi #CVAnandaBose #Governor #westbengalelection2026 #WestBengal #WestBengalnews pic.twitter.com/BzS54qD278
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 6, 2026
এডিআর-এর মতে, রাজনৈতিক অর্থের স্বচ্ছতা বাড়াতে দাতাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে আরও বেশি আর্থিক জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোটাররাও দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
