Suvendu Attacks Mamata on Dharna
Bengal Liberty Desk, ৭ মার্চ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল খোদ ধর্মতলার প্রকাশ্য সভা থেকে। গতকাল, শুক্রবার ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চের সামনে পৌঁছে গিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে সেখানে উপস্থিত হন পার্শ্ব শিক্ষকরা। কিন্তু তাঁদের ন্যায্য দাবি শোনার পরিবর্তে জুটল কটু মন্তব্য এবং ‘রাজনৈতিক তকমা’। যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে (Suvendu Attacks Mamata on Dharna)।
প্রতিবাদের মুখে কটাক্ষ, সরব শুভেন্দু (Suvendu Attacks Mamata on Dharna)!
গতকাল ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অবৈধ মুসলিম বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে একটা নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।
কিন্তু সেই নাটকের মঞ্চের সামনে পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত পার্শ্বশিক্ষকরা নিজেদের ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের কথা শোনার বদলে, তাদের… pic.twitter.com/t8kMQZwZeM
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) March 7, 2026

এই ঘটনায় এবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে ভিডিয়ো পোস্ট করে সরব হলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্স পোস্টে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, “গতকাল ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অবৈধ মুসলিম বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে একটা নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।” কিন্তু সেই মঞ্চের সামনে বকেয়া বেতন এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত পার্শ্ব শিক্ষকরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তখন মঞ্চ থেকে তাঁদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তাঁরা বিজেপির প্ররোচনায় এসব করছেন। আন্দোলনকারীদের হাতের পোস্টার দেখে কটাক্ষের সুরে বলা হয়, “এসব গিয়ে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ আর নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দেখান।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্দোলনরত পার্শ্ব শিক্ষকদের রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
এরপরই শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কেউ ন্যায্য দাবি জানাতে পারবে না? কারোর প্রতিবাদ জানানোর অধিকারটুকু নেই? প্রতিবাদ করলেই প্রতিবাদকারীরা তখন কারোর না কারও এজেন্ট হয়ে যান। বছরের পর বছর বঞ্চিত পার্শ্বশিক্ষকদের কণ্ঠস্বর কি এভাবেই দমিয়ে রাখা হবে?”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়ে বিরোধী দলনেতার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতা চরমে পৌঁছেছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই স্লোগান জোরালো হচ্ছে— “অন্যায় ও বঞ্চনার জবাব দিতে পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।”
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে আক্রমণ মমতার (Suvendu Attacks Mamata on Dharna)-

এদিন কেবল আন্দোলনকারীরাই নন, মুখ্যমন্ত্রীর রোষের মুখে পড়ে সংবাদমাধ্যমও। ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ‘বিজেপির দালাল’ বলে তকমা দেওয়া হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে ন্যায্য দাবিতে প্রতিবাদ করার অধিকার যে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। সংবাদমাধ্যম যখনই সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরছে, তখনই তাঁদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল, শুক্রবার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনা অবস্থানে বসেছেন, সেখানেই হঠাত্ প্ল্যাকার্ড হাতে ঢুকে পড়েন বেশ কয়েকজন পার্শ্ব শিক্ষক। এদিন বিকেলে যখন ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখনই একদল পার্শ্ব শিক্ষক ব্যারিকেড টপকে মঞ্চের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের হাতে ছিল বেতন বৃদ্ধির দাবিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড। মঞ্চ থেকে তা দেখেই বেজায় চটে যান মুখ্যমন্ত্রী। বিশৃঙ্খলা দেখে মঞ্চ থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে রাজনীতি করবেন না। অন্য জায়গায় গিয়ে করুন।” একই সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে মমতা বলেন, “এদের অন্যত্র নিয়ে গিয়ে রেখে আসুন।”
আরও পড়ুন (Suvendu Attacks Mamata on Dharna)-
Para Teachers Protest at Mamata Dharna: ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চে পার্শ্ব শিক্ষকদের বিক্ষোভে ধুন্ধুমার! মমতার নির্দেশে প্রতিবাদীদের আটক পুলিশের
Mamata Banerjee Dharna at Dharmatala: উন্নয়নের ‘পরিবর্তন যাত্রা’র জোয়ারে চাপে তৃণমূল? ধর্মতলায় মমতার ধর্নায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ!
পুলিশি তৎপরতা (Suvendu Attacks Mamata on Dharna)!
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পেয়েই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দ্রুত সক্রিয় হয় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা। আন্দোলনকারীদের টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
কিন্তু প্রশ্ন হল বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত পার্শ্বশিক্ষকদের এই কণ্ঠস্বর কি এভাবেই দমিয়ে রাখা হবে? বাংলার মানুষ এই বঞ্চনার বিচার আগামী দিনে ভোটবাক্সেই দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ (Suvendu Attacks Mamata on Dharna)।
