Oil Tanker Explosion Near Iraq Coast
Bengal Liberty Desk, ১২ মার্চ:
আচমকায় কেঁপে উঠল সমুদ্র। বিশাল বড়ো জাহাজ দাউ দাউ করে জ্বলছে, চারদিকে শুধু আগুনের লেলিহান শিখা (Oil Tanker Explosion Near Iraq Coast)। গতকাল, বুধবার রাত ৯টা নাগাদ বাসরার ইরাকের কাছে সমুদ্রে খোর আল-জুবাইর পোর্টে কার্গো লোডিং অপারেশন চলছিল। তখনই খুব জোরে একটি মানবহীন বিস্ফোরক বোঝাই স্পিডবোট দ্রুতগতিতে ছুটে এসে এমটি সেফসি বিষ্ণু জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটায়।
মোট ২৮ জন ক্রু ছিল—১৬ জন ভারতীয় ও ১২ জন ফিলিপিনো। তাদের মধ্যেই নিহত হয়েছেন এক ভারতীয় নাবিক। জাহাজটিতে প্রায় ৪৮,০০০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ন্যাফথা বহন করা হচ্ছিল।
অনেকে মনে করছেন এই হামলা ড্রোন বা আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। খুব মাথা খাটিয়ে এই হামলা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পর ইরাকি কোস্ট গার্ড সবাইকে উদ্ধার করে পোর্ট অফ বাসরা-র দিকে নিয়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিজিএস ও মিনিস্ট্রি অফ পোর্টস একটি প্রেস বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে হামলা হল? Oil Tanker Explosion Near Iraq Coast
গতকাল, বুধবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ এই হামলাটি চালানো হয়। স্পিডবোটটিতে প্রচুর বিস্ফোরক ছিল। সেটি জাহাজের স্টারবোর্ড দিক থেকে এসে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গেই আগুন লেগে যায়। এখনও পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায়নি এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে। তদন্ত চলছে।

কেন এই হামলা? Oil Tanker Explosion Near Iraq Coast
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতির প্রভাব এবার ইরাকের সমুদ্রেও এসে পড়েছে। তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর পেছনে পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের মদত থাকতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। কারণ ভারত এমন একটি দেশ, যারা কখনও নিজের ইচ্ছায় যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং সব দেশকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে বহুবার দেখা গিয়েছে দুই দেশের যুদ্ধের মাঝখানে তৃতীয় কোনও রাষ্ট্র বলি হয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে—ভারতকে যুদ্ধে জড়ানোর জন্যই কি এই হামলা চালানো হল? সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
