Asit Mazumdar Left TMC
Bengal Liberty, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে(Asit Mazumdar Left TMC) কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তবে সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে হুগলির চুঁচুড়া কেন্দ্রে। সেখানে তিনবারের জয়ী বিধায়ক তথা এলাকার দাপুটে নেতা অসিত মজুমদারকে সরিয়ে দল প্রার্থী করেছে তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। এই সিদ্ধান্তের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিদায়ী বিধায়ক, ঘোষণা করেছেন রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার।

চুঁচুড়ার প্রার্থী হিসেবে দেবাংশু ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা হতেই নিজের অসন্তোষ আর চেপে রাখতে পারেননি অসিত মজুমদার। ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আসা এই নেতা সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দল মনে করেছে আমার চেয়ে দেবাংশুই ভালো হবে। কারণ ওরা যুবক, অনেক বেশি ভাইটাল।” তবে তাকে প্রার্থী না করার বিষয়ে দল আগে থেকে কোনো আলোচনা করেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরেই তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন আছে নাকি! যেখানে দিদিমণি এবং অভিষেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাঁরাই তো দলের সর্বময় কর্তা। আমরা চুনোপুঁটি লোক, আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলবে?”
দলের প্রতি তাঁর অভিমান এতটাই যে, তিনি নিজেকে ‘ঠিকা চাকর’ হিসেবে কাজ করতে অস্বীকার করেছেন। দল যদি তাঁকে পরবর্তীকালে কাজ চালিয়ে যেতে বলে, তার উত্তরে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “দল বললেই কাজ করতে হবে নাকি? আমি কি কারো ঠিকা চাকর?”
রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ ঘোষণা (Asit Mazumdar Left TMC)
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়ে অসিত মজুমদার এদিন বড় ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি আর রাজনীতি করবেন না। তাঁর কথায়, “রাজনীতি থেকে এবার বিশ্রাম নিলাম। রাজনীতি আর করব না।”
কেন তাঁকে টিকিট দেওয়া হলো না, সেই প্রশ্নে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমার মধ্যে কোনো খামতি আছে। আমি মনে করি খামতি নেই, কিন্তু দল মনে করেছে আছে। নইলে তিনবার জেতার পর এবার টিকিট দিল না কেন?” তাঁর এই ঘোষণায় চুঁচুড়ার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কেন বাদ পড়লেন অসিত মজুমদার? (Asit Mazumdar Left TMC)
অসিত মজুমদারকে টিকিট না দেওয়ার পিছনে দলের অন্দরে একাধিক কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। গত কয়েক মাস ধরে বেশ কিছু বিতর্কে তাঁর নাম জড়িয়েছিল:
• প্রশাসনিক কাজে বাধা: এসআইআর (SIR) শুনানিতে বাধা দেওয়া এবং প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে সরকারি ‘ফর্ম ৭’ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।
• সাংসদ তহবিলের কাজ নিয়ে ঝামেলা: হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে আসা টাকায় একটি স্কুলে কাজ চলাকালীন তিনি সেখানে গিয়ে ঝামেলা পাকান বলে অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মোটেই খুশি ছিলেন না।
• বিরোধী যোগের জল্পনা: ভোটের আগে আগে বিজেপি এবং সিপিএম নেতাদের সঙ্গে অসিত মজুমদারের যোগাযোগ বৃদ্ধির গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল।
দলের একাংশের মতে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে সামনে আনতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চুঁচুড়ায় নতুন মুখ দেবাংশু: ‘নতুন পরিবার’ (Asit Mazumdar Left TMC)
অন্যদিকে, চুঁচুড়া থেকে টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বসিত দেবাংশু ভট্টাচার্য। এর আগে লোকসভা নির্বাচনে তমলুক থেকে লড়াই করে পরাজিত হলেও তাঁর লড়াকু মানসিকতাকে প্রশংসা করেছিল দল। দেবাংশু মনে করেন, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে তার শক্তির মধ্যগগনে থেকেও যেভাবে নতুন প্রজন্মকে জায়গা দিচ্ছে, তা এক অনন্য উদাহরণ।
West Bengal Election 2026: হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়বেন অভিনেতা @ActorRudranil | West Bengal | Bengal Liberty@BJP4Bengal #bjpwestbengal #bjpnews #westbengalnews #westbengalelection #election2026 #bengalliberty pic.twitter.com/MGpH8boK5X
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 17, 2026
দেবাংশু বলেন, “চুঁচুড়া রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং অত্যন্ত সংস্কৃতিভাবাপন্ন এলাকা। আজ থেকে চুঁচুড়া আমার আরও একটি পরিবার। এখানকার মা-কাকিমা এবং বোনেরা যে নতুন চুঁচুড়া গড়ার স্বপ্ন দেখেন, আমি তা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করব।”
তিনি সিপিএম-এর উদাহরণ টেনে কটাক্ষ করে বলেন, বামেরা তাদের পতনের সময় নতুন মুখ এনেছিল, কিন্তু তৃণমূল দল শক্তিশালী থাকা অবস্থাতেই যুব সমাজকে এগিয়ে দিচ্ছে।
চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই এবার বেশ আকর্ষণীয় হতে চলেছে। একদিকে তিনবারের বিধায়কের বিদায় এবং রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা, অন্যদিকে দেবাংশু ভট্টাচার্যের মতো বাগ্মী ও তরুণ নেতার আগমন—সব মিলিয়ে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার। দলত্যাগী বা বিক্ষুব্ধ অসিত মজুমদারের অনুগামীরা দেবাংশুকে কতটা মেনে নেবেন, তার ওপরেই নির্ভর করছে চুঁচুড়ার নির্বাচনী ফলাফল।
