Delhi building fire
Bengal liberty desk,১৮ মার্চ:
ইন্দোরের পর এবার দেশের রাজধানী। বুধবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পালাম এলাকায় একটি পাঁচতলা বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের আটজন সদস্য। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিশেষ আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা ও ক্ষতিপূরণ
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে এই দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
.
PM Modi announces an ex-gratia of Rs. 2 lakh from PMNRF for the next of kin of each deceased, and Rs. 50,000 for the injured, in the incident of fire that broke out in a building in Delhi’s Palam area. pic.twitter.com/NepVz76pQT
— ANI (@ANI) March 18, 2026
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকাল ৭টা নাগাদ পালাম মেট্রো স্টেশনের কাছে অবস্থিত ওই বহুতলটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো ভবনটিকে গ্রাস করে নেয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের (DFS) ৩০টি দমকল ইঞ্জিন। কিন্তু এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং গলি সরু হওয়ায় উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের।
গুদাম থেকেই কি বিপত্তি?
দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাঁচতলা ভবনটির বেসমেন্ট, নিচতলা এবং প্রথম তলাটি কাপড় ও প্রসাধন সামগ্রীর গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলাটি ছিল আবাসিক ইউনিট। ধারণা করা হচ্ছে, গুদামের দাহ্য পদার্থের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আবাসনটি। ওপরের তলায় আটকে পড়া বাসিন্দারা বেরোনোর পথ না পেয়ে জানলার কাছে ভিড় করেন। প্রাণ বাঁচাতে দুজন ব্যক্তি ওপর থেকে নিচে ঝাঁপ দেন, যাঁদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।

উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতি:
দমকলকর্মীরা মই ও হোস পাইপ ব্যবহার করে জানলা ভেঙে তিন শিশুসহ আটজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। বর্তমানে বহুতলটিকে ঠান্ডা করার কাজ (Cooling Operations) চলছে এবং ভেতরে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ফরেনসিক দল। ঘিঞ্জি এলাকায় বাণিজ্যিক গুদাম ও আবাসিক ইউনিট একসঙ্গে থাকা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। গোটা এলাকাটি বর্তমানে ঘিরে রাখা হয়েছে।
