Suvendu Adhikari Nandigram
Bengal Liberty Desk, ২৭ মার্চ, কলকাতা: লোকসভা ভোটের আবহে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ চড়ল কয়েক গুণ। আজ, শুক্রবার রামনবমীর পুণ্যলগ্নে একদিকে যখন এলাকায় শাসকদলের হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি চলছে, ঠিক তখনই তাঁর সভার ঢিলছোড়া দূরত্বে তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ধস নামালেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর হাত ধরে ১১ জন তৃণমূল নেতা এবং এলাকার প্রায় ৭০টি পরিবার ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে শামিল হলেন (Suvendu Adhikari Nandigram)।
রামনবমীর মিছিলে জন বিস্ফোরণ (Suvendu Adhikari Nandigram)
এদিন নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়া থেকে জানকিনাথ মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। কয়েক হাজার বিজেপি কর্মীর ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি এবং গেরুয়া পতাকায় মুড়ে যায় গোটা এলাকা। মিছিল শেষে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীকে দেখা যায় জনসংযোগে অন্য মেজাজে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে রামনবমীর প্রসাদ তুলে দেন তিনি।
শাসকদলকে কড়া তোপ (Suvendu Adhikari Nandigram)

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির কোনও লড়াই নেই। লড়াইটা আসলে ISF-এর সঙ্গে।” শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবের সাম্প্রতিক ‘জয় শ্রীরাম’ বলা প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এখন থেকে প্র্যাক্টিস করছেন, কারণ ৪ঠা মে-এর পর শ্রীরামের স্মরণেই থাকতে হবে।” এমনকি পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার জেরে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে প্রশ্নের উত্তরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন-
Suvendu in Nandigram: রামনবমীতে দ্বিমুখী শক্তি-প্রদর্শন! নন্দীগ্রাম–ভবানীপুর দু’জায়গাতেই গেরুয়া ঝড় তুললেন শুভেন্দু
BJP Ram Navami rally: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর ‘মেগা শো’, আসানসোল থেকে হাওড়া – জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে মুখরিত বাংলা
ভাঙন ও ভোটের সমীকরণ (Suvendu Adhikari Nandigram)
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন একদা শুভেন্দুরই অনুগামী বলে পরিচিত পবিত্র কর। কিন্তু ভোটের ঠিক মুখে এদিন যেভাবে ৭০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিল, তাতে শাসকদলের ওপর চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলবদলুদের মতে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান অনাচার এবং সনাতনী আবেগের টানেই তারা বিজেপিতে যোগ দিলেন। সব মিলিয়ে, অভিষেকের সভার দিনেই শুভেন্দুর এই শক্তিবৃদ্ধি এবং রামনবমীর শোভাযাত্রার ভিড় নন্দীগ্রামের লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
