Rajshri Deshpande cancer
Bengal liberty desk, ২৯ মার্চ :
মুম্বইয়ের মায়ানগরীতে আলোর ঝলকানি আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশের পিছনেও যে এক একটা ধূসর গল্প লুকিয়ে থাকে, তা রাজশ্রী দেশপাণ্ডের জীবন না দেখলে বোঝা যেত না (Rajshri Deshpande cancer)। স্যাক্রেড গেমস’ বা ‘ট্রায়াল বাই ফায়ার’-এর সেই তুখোড় অভিনেত্রী রাজশ্রীর সামনে একদিন থমকে দাঁড়িয়েছিল এক কঠিন সত্য। স্তন ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের সঙ্গে লড়াইয়ে এক দুর্গম পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি।
সেই দিনটির কথা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন রাজশ্রী। হাসপাতালের করিডরে একা বসে ছিলেন তিনি। হাতে ছিল বায়োপসি রিপোর্ট। যখন নিশ্চিত হলেন, তখন মুহূর্তের মধ্যে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছিলো তাঁর। পাশে হাত ধরার মতো ছিল না কেউই। হাসপাতালের সেই নিঃসঙ্গতা আর অজানা ভয় আজ যেন তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে।

ক্যান্সার থেকে বেঁচে ওঠার লড়াই
চিকিৎসার শুরুতে প্রতিটা দিনই ছিল এক একটা বড় পরীক্ষা। কেমোথেরাপির ধকল, অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা আর আয়নায় নিজের বদলে যাওয়া চেহারা দেখা—সবটাই ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। রাজশ্রী জানিয়েছেন, প্রথম যখন খবরটা পান, তখন ভগবানের কাছে শুধু একটা প্রার্থনা করেছিলেন, “আমি লড়াই করতে রাজি, তুমি শুধু আমায় জেতার শক্তি দিও।”

কিন্তু এতো কিছুর মধ্যেও তিনি বজায় রেখেছিলেন অদম্য জেদ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, “ভয় কে জয় করাই একমাত্র পন্থা। ” তবে এই লড়াইয়ে বন্ধু, চিকিৎসক, পরিবার ই ছিল তাঁর সব চেয়ে বড় শক্তি।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর রাজশ্রী এখন সুস্থতার পথে। তবে এই যুদ্ধ তাঁকে এক নতুন জীবনের পাঠ শিখিয়ে দিয়েছে। আজ তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন, বরং এক অকুতোভয় যোদ্ধা। এখন তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— রোগকে লুকিয়ে না রেখে সময়মতো পরীক্ষা করানোই হলো মুক্তির প্রথম পথ।
