Khalilur Rahman and Modi Meeting
Bengal Liberty, ৬ এপ্রিল ২০২৬ :
বাংলাদেশে (Khalilur Rahman and Modi Meeting) রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম বড় কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লিতে আসছেন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য। এই সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্ত সমস্যা সমাধান, ভিসা জটিলতা নিরসন এবং দুই দেশের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতাই এই আলোচনার মূল এজেন্ডা।

সব আছে, তবু যেন কিছু নেই (Khalilur Rahman and Modi Meeting)
ভারতের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির। মোদি মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট সদস্যদের উপস্থিতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও কূটনৈতিক মহলে একটি প্রশ্ন দানা বাঁধছে—দুই রাষ্ট্রের এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন মুখোমুখি হচ্ছেন না?
তারেক রহমানের কূটনৈতিক চাল? (Khalilur Rahman and Modi Meeting)
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট তারেক রহমান। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত না থাকলেও ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার। ধারণা করা হয়েছিল, এই সফরে তারেক রহমান নিজেই দিল্লি আসবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে পাঠানোয় প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কোনো কৌশলগত অবস্থান, নাকি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা?
সাহায্য বনাম শীতলতা

সংকটকালীন সময়ে ভারত বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে পাশে দাঁড়িয়েছে। তাসত্ত্বেও ঢাকার পক্ষ থেকে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি বলে দিল্লির কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। একদিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে পাকিস্তান ও আমেরিকার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা—ঢাকার বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি দিল্লির জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারেক রহমানের এই শেষ মুহূর্তের অনুপস্থিতি সেই স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
মোদির অবস্থান ও পালটা চাল (Khalilur Rahman and Modi Meeting)
নরেন্দ্র মোদি বরাবরই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার নীতিতে অটল। তবে কূটনৈতিক গুঞ্জন রয়েছে যে, সমমর্যাদার প্রটোকল বজায় রাখতেই মোদি এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না। যেহেতু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে আসছেন না, তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীও বৈঠকে উপস্থিত না থেকে শীর্ষ নেতৃত্বকে আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Papiya Adhikari: টালিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর মনোনয়ন নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয় হাজরা এলাকায়।@bengalliberty @SuvenduWB @BJP4Bengal #bengalliberty #papiyaadhikari #westbengalelection2026 #westbengalnews #westbengalpolitics #westbengal #bjpwestbengal pic.twitter.com/v2BIHAb3ti
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 6, 2026
শেখ হাসিনাকে নিয়ে টানাপোড়েন?
এই সমীকরণের সবচেয়ে বড় ইস্যু হলো ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে ভারতে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া বা তাঁর অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনো নতুন রণকৌশল সাজাচ্ছেন? চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক শিবিরের এই লড়াই এখন বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোর্ডে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের মাঝেই নিহত ইরানের গোয়েন্দা প্রধান খাদেমি (Majid Khademi Death): যুদ্ধের আঁচ আরও তীব্র!

