Public transport shortage
Bengal liberty desk,২১ এপ্রিল, কলকাতা:
ভোট আসছে মানেই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। একদিকে রাজনৈতিক উত্তাপ, আর অন্যদিকে রাস্তায় বেরিয়ে বাসের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট, কিন্তু তার আগে থেকেই কলকাতার রাস্তা থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে বাস আর অ্যাপ-ক্যাব। সোমবার থেকেই অফিসযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া এমনকি রোগীদেরও রাস্তায় বেরিয়ে কালঘাম ছুটছে। কারণ? ভোটের ডিউটিতে গাড়ি তুলে নিয়েছে প্রশাসন।

রাস্তায় বাসের আকাল:
তথ্য বলছে, দক্ষিণ কলকাতা এবং বেলেঘাটা-শিয়ালদহ রুটের প্রায় ৬০০ বাস ইতিমধ্যেই ভোটের কাজে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৪ নং রুট হোক বা ৭৮/১, ২৪০ কিংবা ২২৩—বেশিরভাগ রুটেই বাসের সংখ্যা হাতেগোনা। খড়দহের বাসিন্দা স্বপন দত্ত যেমন উল্টোডাঙা থেকে মানিকতলা যাওয়ার জন্য ২৫ মিনিট দাঁড়িয়েও বাস পাননি। আবার বেহালার এক অফিসযাত্রী বাসের অভাবে মিটিং এই পৌঁছাতে পারলেন না। শুধু বাস নয়, ছোট গাড়ি বা ১৬ সিটারের শাটলগুলোকেও তুলে নিয়েছে কুইক রেসপন্স টিম।
অ্যাপ-ক্যাব ও বাইক ট্যাক্সিতে পকেট গড়ের মাঠ:
বাস নেই দেখে যারা অ্যাপ-ক্যাব বুক করতে যাচ্ছেন, তাঁদের অবস্থা আরও শোচনীয়। শহরে যেখানে সাধারণত ২৫ হাজার অ্যাপ-ক্যাব চলে, সেখানে এখন চলছে মাত্র ৭ হাজার। ফলে ভাড়ার মিটার ছুটছে রকেটের গতিতে। যেটুকু পথ ২৫০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩০০-৪০০ টাকা দেখাচ্ছে। এমনকি বাইক ট্যাক্সির ভাড়াও ২০-২৫ টাকা করে বেড়ে গেছে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী জানালেন, কলেজ স্ট্রিট থেকে সল্টলেক হোস্টেলে যেতে যেখানে ৮০ টাকা লাগত, এখন লাগছে ১২৫ টাকা!

অসুস্থ রোগী ও জরুরি কাজে হয়রানি:
সবথেকে বিপদে পড়েছেন তাঁরা, যাঁদের কোনো জরুরি কাজ বা হাসপাতালে যাওয়ার তাড়া আছে। মাঝরাস্তায় গাড়ি আটকে চালকদের ভয় দেখিয়ে গাড়ি তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠছে। অনেক মালিক আবার গাড়ি তুলে নেওয়ার ভয়ে গ্যারেজ থেকেই গাড়ি বের করছেন না। ফলে শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশনে নেমে ট্রেনের যাত্রীরাও অটো বা ট্যাক্সি না পেয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন।
কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি?
পরিবহণ সংগঠনগুলোর মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সেই ৪ মে অর্থাৎ ফলপ্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ২৩ তারিখ প্রথম দফার ভোটের পর হয়তো দু-একদিন কিছুটা বাস মিললেও, দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য আবারও ২৫ তারিখ থেকে গাড়ি তুলে নেওয়া হবে। ফলে আপাতত নাভিশ্বাস ওঠা এই ভোগান্তিকেই সঙ্গী করে পথ চলতে হবে সাধারণ মানুষকে।
