First Phase Voting
Bengal Liberty, ২২ এপ্রিল :
আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (First Phase Voting)। ফলে তার আগেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির ছবি। কিন্তু এই ভোটটা আসলে কত বড়, কতটা বিস্তৃত আর কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা কি আমরা ঠিকমতো জানি? কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রার্থী, কোথায় সবচেয়ে বেশি ভোটার, কতগুলি বুথ তৈরি হয়েছে? এই সব খুঁটিনাটি তথ্যই বলে দিচ্ছে পুরো নির্বাচনী ছবিটা কতটা বিশাল। তাই এক নজরে দেখে নেওয়া যাক প্রথম দফার ভোটের সম্পূর্ণ অ্যানালিটিক্স (First Phase Voting )।

প্রার্থী সংখ্যা (First Phase Voting )
এই দফায় মোট ১৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১৩১১ জন এবং মহিলা প্রার্থী ১৬৭ জন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পর্বে কোনও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী নেই, যা পরিসংখ্যানগতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। এবং সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ, করণদিঘি এবং ইটাহার কেন্দ্রে। এই তিন আসনেই ১৫ জন করে প্রার্থী লড়ছেন। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ৫ জন।
মোট ভোটারের চিত্র (First Phase Voting )
প্রথম দফার ভোটে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন এবং মহিলা ভোটার ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২১০ জন। পাশাপাশি ৪৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতি ১০০০ জন পুরুষ ভোটারের বিপরীতে মহিলা ভোটার রয়েছেন ৯৫০ জন, যা লিঙ্গ অনুপাতের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ
এই দফায় নতুন প্রজন্মের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৭১৮ জন তরুণ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে চলেছেন। ফলে এই নির্বাচনে যুব সমাজের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি
অন্যদিকে অভিজ্ঞ ভোটারদের সংখ্যাও কম নয়। ১০০ বছরের বেশি বয়সী ভোটার রয়েছেন ৪ হাজার ২৫ জন। এছাড়া ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪ হাজার ৬১৮ জন, যা দেখায় প্রবীণরাও সমানভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী।
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ ভোটার
এই দফায় ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ২৪৪ জন প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন। তাঁদের জন্য আলাদা সুবিধা ও সহায়ক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
সার্ভিস ও এনআরআই ভোটার
পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ৬৯ হাজার ৪৬৮ জন সার্ভিস ভোটার এই দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পাশাপাশি বিদেশে থাকা ৪৩ জন এনআরআই ভোটারও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সব মিলিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রথম দফার ভোট হয়ে উঠছে আরও বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

আসন ও বুথ (First Phase Voting )
আসন ও বুথের বিন্যাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম দফায় সাধারণ আসন রয়েছে ১০৩টি, তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ৩৪টি এবং তফসিলি উপজাতির জন্য ১৫টি আসন। এই বিশাল ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তৈরি করা হয়েছে মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি পোলিং স্টেশন। এর মধ্যে অধিকাংশই মূল বুথ, আর কিছু অক্সিলারি বুথ রাখা হয়েছে অতিরিক্ত চাপ সামলানোর জন্য। গড়ে প্রতিটি বুথে প্রায় ৮১৩ জন ভোটার ভোট দেবেন।
নারী শক্তি ও স্বচ্ছ ভোট
অন্যদিকে নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে কিছু বিশেষ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ৫ হাজার ৬৪৪টি বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলারা পরিচালনা করবেন, যা নারীর ক্ষমতায়নের একটি বড় বার্তা দেয় কমিশন। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের দ্বারা পরিচালিত বিশেষ বুথও রাখা হয়েছে। মডেল পোলিং স্টেশন থাকছে ২০৭টি এবং প্রতিটি বুথেই ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে পুরো ভোট প্রক্রিয়া নজরদারির মধ্যে থাকে।

প্রযুক্তি প্রস্তুতি (First Phase Voting)
প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির দিক থেকেও কোনও খামতি রাখা হয়নি। এই দফায় ব্যবহার করা হবে প্রায় ৬০ হাজার ব্যালট ইউনিট, প্রায় সমসংখ্যক কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৬৪ হাজারের বেশি ভিভিপ্যাট মেশিন। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব দিক থেকে বিচার করলে বলা যায়, প্রথম দফার এই নির্বাচন শুধু একটি ভোটপর্ব নয়, বরং একটি বিশাল প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখন দেখার বিষয়, এই সুবিশাল ব্যবস্থার মধ্যে কতটা শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে ভোট সম্পন্ন করা যায় এবং মানুষ কতটা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
