Mohanpur violence
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
নির্বাচনের শেষ দিনের প্রচার ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন বিধানসভার মোহনপুর Mohanpur violence। বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানাকে মেরে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত সংখ্যালঘু গুণ্ডাবাহিনীর বিরুদ্ধে। হামলায় আহত একাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক। পাশাপাশি আগুন ধরানো হয়েছে একাধিক মোটরবাইকে।

হামলা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের, হাত ভাঙল বিজেপি প্রার্থীর
মঙ্গলবার দাঁতন বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার সমর্থনে বাইক মিছিল চলাকালীন মোহনপুরের আঁতলা এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত সংখ্যালঘু দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে মিছিলে থাকা কর্মী-সমর্থকদের মারধর করে এবং প্রার্থীর গাড়ি সহ একাধিক বাইক ভাঙচুর করে। সেই হামলায় বিজেপি প্রার্থীর হাত ভেঙেছে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হন বলে অভিযোগ। আহতদের প্রথমে মোহনপুরের বাগদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও ওড়িশার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশকে জানানো হলেও তৎক্ষণাৎ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ বিজেপির
ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে থানা চত্বরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। সংঘর্ষের আবহে প্রায় ২৫-৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তিনটি মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে সব মিলিয়ে প্রায় ৫৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যায় মোহনপুর থানায় পৌঁছন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মারধর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি অভিযান চলছে। আসন্ন ভোটকে সামনে রেখে যাতে পরিস্থিতি শান্ত থাকে এবং ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে বিরোধী প্রার্থীর নিরাপত্তাই নিশ্চিত নয় সেখানে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত? তাঁদের মতে, যদি একজন প্রার্থীই আক্রমণের মুখে পড়েন, তাহলে মাঠে থাকা সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের অবস্থা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে। ভোটের আগে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়েও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের নিরাপদে প্রচার ও রাজনৈতিক কার্যকলাপ করার সুযোগ থাকা উচিত।
আরও পড়ুন: ভোররাতে তালিকা প্রকাশ নির্বাচন কমিশনের, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম থাকলেই ভোটাধিকার। শেষ মুহূর্তে স্বস্তি বহুজনের
