opposition leader issue
Bengal Liberty, ১৮ মে :
বালিগঞ্জের বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এখনও বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেয়নি বিধানসভার সচিবালয়। অষ্টদশ বিধানসভা গঠন হয়ে প্রথম অধিবেশন হয়ে গেলেও কেন এখনো তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়নি? সেই বিষয়টি স্পষ্ট জানতে রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টে আবেদন করলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
শোভনদেবের অভিযোগ, ১৩ মে সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। যেখানে ৮০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে শোভনদেবের নাম জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন এখনও তাঁকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়নি? সেই অভিযোগ তুলছে তৃণমূল পরিষদীয় দল।

চিঠি পাঠিয়েও কেন স্বীকৃতি পেল না বিরোধী দলনেতা? opposition leader issue
তৃণমূল সূত্রে খবর, স্পিকার অফিসে না থাকায়, সেই চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসকে। চিঠি দেওয়ার প্রায় পাঁচ দিন পরেও বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাকে কোনও সরাসরি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ এই অশীতিপর রাজনীতিকের।তবে স্পিকারের দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, তৃণমূল পরিষদীয় দল একটি চিঠি দিয়ে বিধানসভার সচিবালয়ে তাদের দলনেতার নাম জানিয়েছে।
কিন্তু পাল্টা চিঠি দিয়ে বিধানসভার সচিবালয় জানিয়েছেন, তৃণমূল পরিষদীয় দলের যে বৈঠকে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রস্তাবে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত পত্রটি পাঠানো হোক।

শোভনদেবের ক্ষোভ প্রকাশ
প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাছে ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও নানা অছিলায় তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শোভনদেব বলেছেন, “বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয় না। তবে বিধানসভার সচিবালয় থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিয়োগ করার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি, এমনকি বিধানসভায় বিরোধী দলের জন্য যে অফিসটি রয়েছে। সেই অফিসটিতেও তালা ঝোলানো রয়েছে।” শোভনদেব আরও বলেন, “আমি বাধ্য হয়ে আরটিআই করেছি। সেখানে আমি জানতে চেয়েছি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ক্ষেত্রে কি নিয়ম অনুসরণ করেছিল সচিবালয়?”

ঘটনাচক্রে, সোমবার বিধানসভায় এসেছিলেন শোভনদেব। বিরোধী দলনেতার ঘরে তালা থাকায় দীর্ঘক্ষণ বিধানসভায় এসে লবিতে বসেই নিজের কাজকর্ম সেরে ফিরে যান। উল্লেখ্য, যে চিঠিতে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করার কথা জানানো হয়েছে, সেই চিঠিতেই ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপ দলনেতা করার কথা জানানো হয়েছে।
