Eid in Bangladesh
Bengal Liberty, নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক:
শেখ হাসিনার (Eid in Bangladesh) নেতৃত্বাধীন সরকারের অবসান এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে ঈদের চিরচেনা আনন্দ, উৎসাহ আর উদ্দীপনায় কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মাঝে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নারী নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ (Eid in Bangladesh)
বিগত বছরগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, নারীর স্বাধীন চলাফেরা, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রগুলো আগের চেয়ে সংকুচিত হচ্ছে। আইনের অপব্যবহারের কারণে নারীদের সুরক্ষার বিষয়টি এখন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে।

রাজনৈতিক মামলা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ (Eid in Bangladesh)
পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন যেমন ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী মত দমনের এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার ফলে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকার সীমিত হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক অস্থিরতা (Eid in Bangladesh)
সারা দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসছে। এর পাশাপাশি সড়ক অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎসবের এই মৌসুমেও অপরাধ ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি (Eid in Bangladesh)
বর্তমানে দেশে হামসহ কিছু সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানে শত শত শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে ঈদের বাজারে আগের মতো কেনাকাটার ধুম নেই; মানুষের আগ্রহ ও সক্ষমতা দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা (Eid in Bangladesh)
অভিযোগ উঠছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ায় বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, দেশে “আইনের শাসন” নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক ধরনের স্থবিরতা বা অপশাসনের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে।

স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা ও জনমত (Eid in Bangladesh)
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী মনে করছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং মেগা অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছিল, বর্তমান সময়ে তার অভাব প্রকট। বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্বের ভূমিকা অনেকেই ইতিবাচকভাবে স্মরণ করছেন। ফলে দেশের একটি বড় অংশ পুনরায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।
ঈদ সবার জন্য আনন্দ ও সম্প্রীতির উৎসব। কিন্তু বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বহু মানুষের কাছে উৎসবের সেই আমেজ কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ চায় অরাজকতা, অর্থনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণই এখন সাধারণ জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষা।
আরও পড়ুন:
সময়ের বজ্রকণ্ঠ (Democracy of Bangladesh): গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মুক্তির প্রয়োজনে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তনই এখন দেশের মানুষের প্রাণের দাবি

