BSF Land Handover West Bengal
Bengal Liberty: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত ও নিশ্ছিদ্র করতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (BSF Land Handover West Bengal)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম পর্যায়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করেছে। এই জমিতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, সীমান্ত চৌকি বা আউটপোস্ট গড়ে তোলা এবং নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।
Bangladeshi intruders: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই সীমান্তে জমায়েত@SuvenduWB @BJP4Bengal @bengalliberty1 #westbengal2026 #westbengalnews #suvenduadhikaribengalcm #bangladeshi #bangladeshiintruders #bengalliberty pic.twitter.com/KA5H2eo1NH
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 27, 2026
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছিল নতুন প্রশাসন। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তর করা হবে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার পরই প্রশাসনিক স্তরে জমি চিহ্নিতকরণ ও হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে ১৪২ একরের বেশি জমি এখন বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মুর্শিদাবাদেই সবচেয়ে বেশি জমি পেল বিএসএফ (BSF Land Handover West Bengal)
সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “সীমান্ত সুরক্ষায় আরও নিবিড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল বর্তমান রাজ্য সরকার (BSF Land Handover West Bengal)। প্রাথমিক পর্বের পর আবারও বিএসএফ-কে নতুন পর্যায়ে জমি হস্তান্তর করায় মোট হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ১৪২.৭৯ একর। এই জমিতে বিএসএফ আউটপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে সীমান্ত এলাকা আরও সুরক্ষিত হবে।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে নেওয়া ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া জেলা ভিত্তিক খতিয়ান অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়— মোট ৩৮.৮০৫ একর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জলপাইগুড়ি, যেখানে বিএসএফ-কে ৩৫.১৬৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোচবিহারে ২২.৯৫ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর, মালদহে ১০.৯০ একর, দার্জিলিংয়ে ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, উত্তর ২৪ পরগনায় ২.৬ একর এবং নদিয়ায় ০.৫৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

৪৫ দিনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দ্রুত কাজ প্রশাসনের (BSF Land Handover West Bengal)
প্রশাসনিক মহলের মতে, সীমান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশ, পাচার ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হয়নি, সেখানে নতুন করে জমি পাওয়ায় বিএসএফ দ্রুত পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতেও নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় মোট ২৭ কিলোমিটার অংশে বিএসএফ-কে জমি দেওয়া হবে এবং আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে। সেই বৈঠকে তিনি পূর্বতন সরকারের রাজনৈতিক অনীহারও সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ৪০০০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা। অথচ এতদিনের মধ্যে মাত্র ১৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাকি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সরকারের এই সক্রিয় ভূমিকা আগামী দিনে আরও বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৪২ একর জমি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

