Baruipur Incident
Bengal Liberty: বারুইপুরের ধপধপি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে সরব সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে তখন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রশাসনের তরফে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং রাজ্যের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

মমতার সফরের আড়ালে রাজনৈতিক উসকানি (Baruipur Incident)
বারুইপুর যখন বারুদের স্তূপে পরিণত, তখন সেখানে পৌঁছে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায় এবং কোনোভাবেই যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তকে ‘গৃহবন্দি’র নাটক আখ্যা দিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনরা যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছেন, তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘নিছক নাটক’ বলে অভিহিত করছেন।

তৃণমূল নেতাদের ‘রাজনৈতিক বয়ান’ ও বাস্তব (Baruipur Incident)
তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের একাংশ যখন ডেরেক ও’ব্রায়েনের সুরে সুর মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘চলাফেরার অধিকার’ হরণের অভিযোগ তুলছেন, তখন ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন— রাজ্যের এই নৃশংস ঘটনার পর কি রাজনৈতিক নেত্রীর সফরই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত? কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্যান্য নেতারা যেভাবে একের পর এক টুইট ও বিবৃতি দিয়ে প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে, তারা ঘটনার আসল তদন্তের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরকে। তাঁদের এই অতি-সক্রিয়তাকে অপরাধের ঘটনা থেকে মানুষের নজর ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।

শুভেন্দুর দৃঢ় অবস্থান, অস্বস্তিতে তৃণমূল (Baruipur Incident)
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই চরম স্পর্শকাতর মুহূর্তে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন। তিনি নিজে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের তদন্তে যাতে কোনো খামতি না থাকে, তার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে— যা প্রমাণ করে সরকার অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কতটা দায়বদ্ধ। তৃণমূল যখন কেবল ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, তখন শুভেন্দু অধিকারীর এই মানবিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাংলার মানুষের কাছে এক বার্তাই দিচ্ছে যে— সরকার ‘রাজনৈতিক নাটক’ নয়, ‘বিচার’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের নীরবতা নিয়ে (Baruipur Incident)
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল নেতাদের এই আর্তনাদ কেবলই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। “নারীর নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলার অধিকার তৃণমূলের নেই। বারুইপুরের এই ঘটনায় অভিযুক্তরা কাদের মদতপুষ্ট, তা তদন্তে উঠে আসবে,”— স্পষ্ট বার্তা গেরুয়া শিবিরের। তৃণমূল নেতাদের এই ‘ব্যারিকেড’ বিতর্ক যে আসলে অপরাধের তদন্তকে প্রভাবিত করার এবং অহেতুক উত্তেজনা তৈরির একটি ‘ব্যর্থ প্রচেষ্টা’, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শান্তিপ্রিয় মানুষ এখন আর তৃণমূলের এই ‘মৃতদেহ রাজনীতি’তে পা দিতে রাজি নয়। প্রশাসন ও সরকারের কঠোর পদক্ষেপে অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত হওয়াই এখন জনসাধারণের একমাত্র চাওয়া।

