Kamduni
Bengal Liberty : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে (Kamduni)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত আবহ। তারই মধ্যে বর্তমান রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের পাশে দাঁড়ালেন বারাসতের কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ মৌসুমি কয়াল। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তৎকালীন সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। মৌসুমি কয়ালের বক্তব্য, কামদুনি কাণ্ডে দীর্ঘ লড়াই করেও তাঁরা প্রকৃত বিচার পাননি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “ধর্ষকরা নিজের দোষ স্বীকার করার পর এনকাউন্টারে আপত্তি নেই। কামদুনি কাণ্ডে বিচারের জন্য আদালতে গিয়েও দোষীরা মৃত্যুদন্ড পেল না।” তিনি আরও বলেন, “এই ধর্ষকদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।” পাশাপশি বেঙ্গল লিবার্টিকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে কামদুনি ফাইল পুনরায় তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন (Kamduni)।

বারুইপুর এনকাউন্টারকে সমর্থন কামদুনির প্রতিবাদীর (Kamduni)
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় সরব হয়েছেন কামদুনি আন্দোলনের প্রতিবাদী মুখ মৌসুমি কয়াল। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলে তাঁরা বলেন, “কামদুনির ঘটনার পর এতদিন কেটে গেলেও আমরা সঠিক বিচার পাইনি। এই ধর্ষকদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। এভাবেই বাংলার প্রতিটা ধর্ষককে খতম করা উচিত, তবেই নারীদের ওপর নির্যাতন কমবে।” তাঁদের দাবি, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরেও কামদুনি কাণ্ডে প্রকৃত বিচার অধরাই থেকে গিয়েছে। সেই কারণেই বারুইপুরে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপকে তাঁরা সমর্থন জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, ধর্ষণের অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

কামদুনি থেকে বারুইপুর, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে মৌসুমি (Kamduni)
২০১৩ সালে কামদুনির ২০ বছরের এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামদুনিতে গিয়ে প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তিনি প্রতিবাদীদের ‘মাওবাদী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এরপর টুম্পা ও মৌসুমি কয়ালকে বারবার তৎকালীন শাসকদলের রোষের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ। ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত মামলার তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু পরে কলকাতা হাইকোর্টের সেই রায়ে বড় পরিবর্তন আসে। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব এবং তদন্তে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল করে ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় এবং বাকি তিনজনকে বেকসুর খালাস করে।
এই প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌসুমি কয়াল বলেন, “এই এনকাউন্টারের খবরে আজ বাংলার মেয়েরা মনে শান্তি পেয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সেসময় কামদুনির দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি দিতেন, তবে আজ বাংলায় নারী নির্যাতনের পরিমাণ অনেকটাই কমতো। কিন্তু তৃণমূল সরকার বরাবর অপরাধীদের আড়াল করেছে। আজ প্রশাসন যে কড়া পদক্ষেপ দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”


