Mahua Moitra
Bengal Liberty : বারুইপুরের ধর্ষণ-খুন মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত (Mahua Moitra)। এই ঘটনায় ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’- দেখছেন কালীঘটপন্থী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যেখানে ধর্ষকের মা তাঁর মারা যাওয়ার পর সেই মৃত্যুকে সঠিক বলছেন সেখানে মহুয়া ধর্ষকদের সাইড নিয়েই পোস্ট করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন চিহ্ন রেখে বলছেন, ‘কী হচ্ছে?’ এখানেই শেষ নয় এদিনের পুরো ঘটনাতে তিনি উত্তরপ্রদেশ মডেল দেখছেন। পাশাপশি বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি সরকার নয়, এ যেন জঙ্গলের আইন।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মতে, সরকার পরিবর্তন হলেও তৃণমূলের পুরোনো মানসিকতার বদল হয়নি। এখানে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কাছে নাবালিকার নৃশংস মৃত্যু চোখে পড়ল না, চোখে পড়ল কেবল অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু (Mahua Moitra)।

এনকাউন্টারে মৃত্যু অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাসের (Mahua Moitra)
বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর খুনের ঘটনায় এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে, পুলিশের দাবি, সে হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। সেখানেই তিনি পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পুলিশও তাঁকে আটকাতে পাল্টা গুলি চালায়! হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। পুলিশের তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিক একদিন আগেই বারুইপুরে এসে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সফরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তের এই মৃত্যু বারুইপুর-কাণ্ডের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ছেলের মরা মুখও দেখতে নারাজ প্রভাসের মা (Mahua Moitra)
বারুইপুর নৃশংস ঘটনার নাম জড়ানোর পরই ছেলের শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন মা সন্ধ্যাদেবী। বুধবার প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টের খবর পৌঁছতেই তিনি সাফ জানালেন, শেষবারের মতোও ছেলেকে দেখতে চান না। পরিবারের কেউ যাবে না। মায়ের কষ্ট হওয়া স্বাভাবিক তা স্বীকার করেই বললেন, “ও যা করেছে, তাতে যা হয়েছে ঠিক হয়েছে। কর্মের ফল পেয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি দেখতে চাই না। আমরা কেউ যাব না। আপনারা যা করার করুন।” তারপর তিনি বলেন, “মেয়েটার সঙ্গে যা করেছে, ওর সঙ্গে যা হয়েছে ঠিক হয়েছে। কর্মের ফল পেয়েছে।”
যেখানে জন্মদাত্রী মা নিজের ছেলের এই কর্মকাণ্ডে তার মরা মুখ দেখতেও রাজি হননি, সেখানে অভিযুক্তের প্রতি দরদী মনোভাব দেখাচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সাধারণ মানুষ উল্টে তাঁকে প্রশ্ন করছেন, হচ্ছেটা কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথায় শুধুমাত্র বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই এরকম কথা তৃণমূল নেত্রীর মুখে এটা বলা ভুল। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও ধর্ষকদের প্রতি দরদী ছিল এই সরকার। সেই কারণেই তৃণমূল সরকার ধর্ষণের ঘটনাকে সাজানো ঘটনা বলে দাগিয়ে দিতেন। নির্যাতিতাকেই দোষারোপ করার ইতিহাস রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের এই পোস্ট যেন সেই পুরোনো মানসিকতারই আরও এক প্রমাণ দিল।

আরও পড়ুন :
Baruipur : পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু বারুইপুর মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস

