Bangladesh US Relations
Bengal Liberty, নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক, বাংলাদেশ: জাতীয় সংসদের পবিত্রতা বনাম ভিনদেশের উৎসব(Bangladesh US Relations) সংসদের দক্ষিণ প্লাজা—যে প্লাজা ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা মাটির প্রতীক। যে প্লাজা বাঙালির গৌরব, ত্যাগ আর স্বাধীনতার অনন্য স্মৃতি বহন করে। কিন্তু এই বছর সেই পবিত্র প্লাজায় আমরা কী দেখলাম? আমেরিকার ২৫০ বছরের বিজয় দিবসের বর্ষপূর্তি উদযাপন!

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। নিজের দেশের নয়, অন্য একটি দেশের বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হলো আমাদের জাতীয় সংসদের আঙিনায়।
বীরের জানাজা বনাম লাল-নীল-সাদা বেলুন(Bangladesh US Relations): বৈষম্য কোথায়?
এই প্লাজায় বারবার বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং এই দেশ সৃষ্টির অন্যতম কারিগর তোফায়েল আহমেদের জানাজা হতে দেওয়া হলো না, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হলো না। অথচ, সেই একই প্লাজায় লাল-নীল-সাদা বেলুন উড়িয়ে, কেক কেটে সাড়ম্বরে উদযাপন হলো আমেরিকার ২৫০ বছর!

এই দৃশ্য বাংলাদেশের মানুষ এই বছরই প্রথম দেখল। এর আগে কখনো দেখেনি, ভবিষ্যতেও দেখতে চায় না। জনতার স্পষ্ট প্রশ্ন: তাদের বর্ষপূর্তি তারা তাদের দূতাবাসে বা কার্যালয়ে করবে, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় কেন? এই প্লাজা কি এখন ভাড়া দেওয়ার জায়গা হয়ে গেল?
আরও লজ্জার বিষয়, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেতা ও ডেপুটি স্পিকারসহ আরও অনেক সুধীজন। জাতির বিবেকের কাছে আজ প্রশ্ন—এটা কি কূটনৈতিক সৌজন্য, নাকি এক ধরনের আত্মসমর্পণ?
অন্ধকারে ৩১ চুক্তি(Bangladesh US Relations): সার্বভৌমত্ব বন্ধকের দলিল?
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়—আমেরিকার সাথে যে ৩১টি চুক্তি হয়েছে, তার একটি শব্দও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ জানে না। কী আছে সেই চুক্তিতে? প্রতিরক্ষা? বন্দর? অর্থনীতি? নাকি সার্বভৌমত্ব বিক্রির গোপন দলিল?

জনগণকে অন্ধকারে রেখে, সংসদকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে যে চুক্তি করা হয়, তা কোনো সাধারণ চুক্তি নয়—তা গোলামীর দলিল। এটা দেশ বিক্রি এবং স্বাধীনতা বন্ধক দেওয়ার শামিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হাত থেকে যে পতাকা আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম, তাকে আবার অন্য পরাশক্তির হাতে তুলে দেওয়ার এই চেষ্টা বাঙালি জাতির সাথে চরম প্রতারণা।
বন্ধু বনাম প্রভু(Bangladesh US Relations): কলোনি নাকি স্বাধীন রাষ্ট্র?
ব্রিটিশরা আমাদের ২০০ বছর শাসন করেছে, পাকিস্তানিরা ২৪ বছর শোষণ করেছে। আমরা সাগর সমান রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। আজ ৫৪ বছর পর এসে যদি সংসদের প্লাজায় অন্য দেশের পতাকা ওড়ে, অন্য দেশের বিজয়গান বাজে—তাহলে আগের শোষকদের সাথে পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য শুধু শোষকের নামে ও চেহারায়, শোষণের ধরণে নয়।

আমেরিকা আমাদের বন্ধু হতে পারে, উন্নয়নের অংশীদার হতে পারে; কিন্তু কখনো আমাদের ‘প্রভু’ হতে পারে না। বাংলাদেশ কারো কলোনি ছিল না, আর কখনো হতেও দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানের অন্তরালে পাকিস্তানি প্রেতাত্মা (Bangladesh US Relations)
প্রিয় দেশবাসী, বিগত দুই বছর ধরে একটি মিথ্যা স্লোগান দেওয়া হচ্ছে—”দিল্লি না ঢাকা”। এই স্লোগান যারা দেয়, তারা আসলে পাকিস্তানিদের জারজ সন্তান ও প্রেতাত্মা। ভারত তো বাংলাদেশের জায়গা দখল করেনি; যদি করত, তবে অনেক আগেই করতে পারত। ভারত কি কখনো বলেছে তারা বাংলাদেশ দখল করবে?

এগুলো আসলে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা এবং একটি কৃত্রিম ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরি করার পাকিস্তানি চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৯৭১ সালেও এই পরিকল্পনা ছিল, এখনো তা চলমান রয়েছে। এরা মিথ্যা স্লোগান দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ও গুজব ছড়ায়। এই ভণ্ড, প্রতারক ও দেশের শত্রুদের বিশ্বাস করবেন না। এদের কাছ থেকে সাবধান থাকুন এবং প্রকৃত দেশপ্রেম হৃদয়ে ধারণ করে দেশের জন্য কাজ করুন।
জনগণের আদালত ও সরকারের প্রতি আহ্বান (Bangladesh US Relations)
দেশের জনগণ সব দেখছে এবং সব বুঝছে। আজ আমরা চুপ করে থাকলে কাল সন্তানদের কাছে জবাব দিতে হবে—”তোমরা কেন সংসদের প্লাজা বেচে দিলে? কেন চুক্তি লুকালে? কেন মাথা নত করলে?”
তাই সরকারের প্রতি আমাদের স্পষ্ট আহ্বান:
৩১টি চুক্তি অবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করুন: জনগণের কাছে কী লুকাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করুন।
সংসদের প্লাজা রাজনীতি ও উৎসবমুক্ত রাখুন: এটি শহীদের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা, কোনো বিনোদন বা উৎসবের ভেন্যু নয়।
সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন থাকুন: দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো রকম আপস মেনে নেওয়া হবে না।
নইলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। আর দেশের সচেতন জনগণ? তারা রাজপথে নেমে ঠিকই হিসাব বুগিয়ে নেবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আরও পড়ুন:
Freedom Of Speech: সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন, দেশকে রক্ষা করুন

