International women's day
Bengal liberty desk, ৮ মার্চ:
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল মন্ত্র ‘Give to Gain’। কিন্তু এই থিমের গভীরে লুকিয়ে আছে এক রূঢ় বাস্তবতা—যাদের হাতে আজ দুনিয়ার চাবি, যাদের হাত ধরে একটি সভ্যতার চাকা ঘোরে, তাঁদের আজও অনেক ক্ষেত্রে ছোট চোখে দেখা হয়(International women’s day)। ঘরের অন্দরমহল থেকে বাইরের কর্মক্ষেত্র, সবকিছুর অদৃশ্য চাবিকাঠি নারী সামলালেও, আজও সমাজ তাঁদের অবদানকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করে।

চাবিকাঠি যাদের হাতে, তারাই কেন অবহেলিত?
একটি পরিবারে সকালের প্রথম কাজ থেকে রাতের শেষ কাজ—সবকিছুর অদৃশ্য পরিচালক হলেন নারী। অথচ আজও আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোয় নারীদের সিদ্ধান্তকে অনেক সময় ছোট করে দেখা হয়। ঘরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হোক বা কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান—নারীর মেধা ও শ্রমকে প্রায়ই পুরুষের তুলনায় গৌণ বলে বিবেচনা করা হয়। এই বৈষম্য কেবল মানসিক নয়, পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট:
সারা বিশ্বে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় গড়ে ৩ গুণ বেশি সময় ব্যয় করেন অবেতনভোগী ঘরের কাজে, যে পরিশ্রমের কোনো আর্থিক স্বীকৃতি সমাজ দেয় না।
ভারতে মহিলারা প্রতিদিন প্রায় ৬ ঘণ্টা ঘরের কাজে ব্যয় করেন, অথচ এই বিশাল অবদানকে অনেক সময় ‘কাজ’ হিসেবেই গণ্য করা হয় না।
পিছিয়ে নেই আর কেউ: সব ক্ষেত্রেই সমান অংশীদারিত্ব
ছোট করে দেখার এই মানসিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নারীরা আজ নিজেদের জায়গা ছিনিয়ে নিয়েছেন। তাঁরা আর পুরুষদের থেকে পিছিয়ে নেই, বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছেন।
প্রতিরক্ষা ও আকাশপথ:
ভারতের বীর কন্যারা আজ কেবল ঘর সামলান না, আকাশপথে শত্রু দমনেও তাঁরা পারদর্শী। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো নৌবাহিনীর কঠিন অভিযানে মহিলা অফিসারদের উপস্থিতি এবং বিমানবাহিনীর ফাইটার পাইলট হিসেবে তাঁদের সাফল্য প্রমাণ করে যে কোনো রণক্ষেত্রই তাঁদের কাছে দুর্ভেদ্য নয়।
ক্রীড়া ও নেতৃত্ব:
আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের দাপট (স্মৃতি মন্ধনা, হরমনপ্রীত কৌরদের হাত ধরে) কিংবা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ব্যক্তিত্বদের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া—সবই আজ নারীদের সমানাধিকারের প্রমাণ।
শিক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব:
মাধ্যমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার গবেষণায় , ছাত্রীরা আজ সাফল্যের হারে ছাত্রদের টেক্কা দিচ্ছেন।
পরিসংখ্যানের আয়নায় লিঙ্গসাম্য (এক নজরে)
দেশভেদে ঘরের কাজে ব্যয় করা সময় ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের হার:
ভারত: ঘরের কাজে ৬ ঘণ্টা; কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ৩২.৭% (যা দ্রুত বাড়ছে)।
নরওয়ে ও সুইডেন: ঘরের কাজে ৩.৫ ঘণ্টা; কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ৭০%-এর বেশি (লিঙ্গসাম্যে প্রথম)।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান: ঘরের কাজে ৪.৫ থেকে ৫ ঘণ্টা; কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ৫৩-৫৭%।
শৃঙ্খল ভাঙার সময়
নারী দিবস কেবল একদিনের উৎসব নয়; এটি সেই সব মানসিকতা পরিবর্তনের শপথ নেওয়ার দিন যা নারীকে ছোট করে দেখতে শেখায়। সমাজকে বুঝতে হবে যে, নারীকে পিছিয়ে রেখে কোনও সভ্যতা এগোতে পারে না। যাদের হাতে দুনিয়ার চাবি, তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ দিলে তবেই সমৃদ্ধ হবে দেশ ও দশ। নারীরা আজ অদম্য, তাঁরা কেবল সমান নয়, তাঁরাই আগামী দিনের আসল কারিগর।

