CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty : রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও কঠোর করতে বিধানসভায় পাশ হয়েছে গুন্ডাদমন বিল (CM Suvendu Adhikari)। সেই বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই আইন কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হবে না বা এর অপব্যবহার করা হবে না। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র সমাজবিরোধী ও গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতেই এই আইন আনা হয়েছে। একইসঙ্গে অতীতে সিএএ ও ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ঘটে যাওয়া হিংসার প্রসঙ্গ তুলে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তাও দেন তিনি। তাঁর আশ্বাস, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপও নিশ্চিত করবে সরকার। উদাহরণ স্বরূপ শুভেন্দুর কণ্ঠে শোনা গেল মুর্শিদাবাদ, বেলডাঙা সহ একাধিক ঘটনার উদাহরণ (CM Suvendu Adhikari)।

সিএএ-ওয়াকফ হিংসার প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ (CM Suvendu Adhikari)
সোমবার বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিলের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিএএ ও ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া হিংসার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীচক্রের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষ, সরকারি সম্পত্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদে রেললাইন উপড়ে দিয়েছিল। রেলে কী শুধু হিন্দুরা চড়েন। মুসলমান চড়েন না। এই লাইন তো গনি খান চৌধুরী পেতেছিলেন।” এরপর একাধিক ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “বেলডাঙায় ৫০০ দোকান জ্বলল। নিমতিতায় ৬৮টি দোকানে আগুন। রেজিনগরেও আগুন। নবান্ন থেকে কিছুটা দূরে সাঁতরাগাছিতে ৩৭টি বাস জ্বালানো হয়েছিল। ২২টি সরকারি বাস। গোটা হাওড়া জেলা ৩৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করা হয়। জাতীয় সড়ক বন্ধ ছিল। বেথুয়াডহরি, বহরমপুরে কী করেননি। করমণ্ডল এক্সপ্রেস দাঁড় করিয়ে বড় বড় পাথর।”

‘গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা’, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari)
আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, “প্রাণ থাকতে কার্যকর করতে দেবেন না বলেছিলেন কী হল? মুসলমান ছেড়ে হিন্দুদের দোকান জ্বলল। ব্যবস্থা নিতেন গুন্ডারা এটা করতে পারত না।” এদিন তিনি হরগোবিন্দ ও চন্দন দাস হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, গুন্ডাদমন বিলের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা নয়, বরং সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তাঁর কথায়, প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এই আইন শুধুমাত্র গুন্ডাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে এবং রাজ্যে কোনওভাবেই গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না।



