Suvendu Adhikari
Bengal Liberty
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একাধিক নতুন উদ্যোগের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিন তিনি ২০০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধন করেন। ১০২ নম্বরে ফোন করলেই এই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়া যাবে। বিশেষভাবে গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন বিধাননগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘বিধাননগর মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল’ রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন প্রকল্পেরও সূচনা করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জরুরি শয্যার প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা ও নজরদারি আরও কার্যকর করতে স্বাস্থ্য ভবনে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে জেলায় একাধিক উন্নয়নের সূচনা
জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। নদিয়ায় নতুন ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসের উদ্বোধন হয়েছে। এছাড়া পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া (দক্ষিণ) এবং পূর্ব মেদিনীপুরের রানীচকে তিনটি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির চালু করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে উদ্বোধন হয়েছে একটি নতুন পাবলিক হেলথ ইউনিট। এছাড়াও মা ও নবজাতকদের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে জননী পোর্টাল চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা-রও আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।জাতীয় চিকিৎসক দিবসে স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।

স্বাস্থ্যের বেহাল দশা রাজ্যে
মঞ্চ থেকে শুভেন্দু জানান, ” যেখানেই আমি হাত দিচ্ছি, সেখানেই ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি ” রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নতির ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে, কিন্তু দেশে বিদেশের নানা জায়গায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই রাজ্যের মানুষই উচ্চ পদ মর্যাদায় রয়েছেন। অন্যান্য রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারতের প্রচলন হওয়ায় মানুষ চিকিৎসার খরচ থেকে মুক্তি পাচ্ছে কিন্তু বিগত বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গবাসী এই সুবিধা থেকে বিরত ছিল। প্রাক্তন সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোর অবস্থা বেহাল দশা। স্বাস্থ্যভবন, মেডিকেল কলেজগুলো করুণ দশায় পরিণত হয়েছে। দেড় মাসে আয়ুষ্মান ভারতের মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, আয়ুষ্মান ভারত চালু হয়েছে রাজ্যে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি ডাক্তাররা এখন ভয়মুক্ত হয়ে চিকিৎসা করতে পারবে বলে আশাবাদী তিনি। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের প্রসার জনসাধারণের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই দেখার।


