Baruipur Rape Case
Bengal Liberty: ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাসের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর সবথেকে চমকপ্রদ মোড় এল যখন মৃত অভিযুক্তের মা সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি তাঁর ছেলের মৃতদেহ গ্রহণ করবেন না। সমাজের চোখে যে চরম ঘৃণার পাত্র, তার জন্মদাত্রী মায়ের এই কঠোর অবস্থান এখন বারুইপুরজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
এনকাউন্টারে মৃত্যু (Baruipur Rape Case)
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারুইপুর থানার পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থল সূর্যপুরে অপরাধ পুনর্নির্মাণে গিয়েছিল। পুলিশের দাবি, সেই সময় প্রভাস হঠাৎ এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় এবং পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয় সে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মায়ের কঠোর বার্তা (Baruipur Rape Case)
বুধবার সকালে পুলিশ যখন প্রভাসের মায়ের কাছে মৃত্যুর খবর নিয়ে পৌঁছায়, তখন কোনো শোকের ছায়া নয়, বরং চরম ক্ষোভ ফুটে উঠেছে সেই বৃদ্ধার কণ্ঠে। তিনি স্পষ্ট জানান, “ও যা কাজ করেছে, তার শাস্তি পেয়েছে। আমি ওর মৃতদেহ দেখতেও যাব না, বাড়িও আনব না। ও একটা মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, তাই ওর এই পরিণতিই হওয়ার ছিল।” তিনি আরও বলেন, ছেলে কারোর কোনো কথা শুনত না এবং নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। আজ সেই কৃতকর্মের ফল সে পেয়েছে।

তদন্তের মোড় (Baruipur Rape Case)
বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনার তদন্তে পুলিশ এখন অবধি চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিল প্রভাস। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত এবং অপরাধের ধারাবাহিকতা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতেই পুনর্নির্মাণের আয়োজন করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, অপরাধের চরমতম পরিণতিই আজ প্রভাস ভোগ করল।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রভাসের মায়ের এই ‘নিস্পৃহ’ অবস্থান অপরাধের জঘন্যতার দিকটিকেই নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

