Humayun Kabir
Bengal Liberty
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার মুর্শিদাবাদ সফরে(Humayun Kabir) গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠক এবং রেজিনগরের জনসভা—দুই মঞ্চ থেকেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “হিংসা অতীত, আইনের শাসনই শেষ কথা।” একই সঙ্গে নাম না করেই জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সংযত থাকার বার্তা দেন।কয়েক দিন আগেই হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে বিধানসভায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়েও তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং কেউ যদি উসকানিমূলক বা আইনবিরোধী মন্তব্য করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বার্তা ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনের শাসনই হবে রাজ্যের একমাত্র পথ

একমাত্র পথ(Humayun Kabir)
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাকটিভিটিজ বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এ রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করার কাজও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, হিংসা এবং সাম্প্রদায়িক অশান্তির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।


প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদেরও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ইস্যুতে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের কোনও বিধায়ক বা সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এদিন শুধু তাঁর মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ভবিষ্যতে জেলার ২২ জন বিধায়ক এবং চার জন সাংসদ—সকলকেই প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান তিনি। মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর জেলায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তাকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

