Kargil War 1999
Bengal Liberty
১৯৯৯ সালের ৩ মে থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের(Kargil War 1999) মধ্যে ঐতিহাসিক কার্গিল যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতীয় সৈনিকদের আত্মবলিদানের বীরত্বগাথা বছরের পর বছর ধরে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অনুপ্রাণিত করে আসছে।


ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা, ক্যাপ্টেন মনোজ কুমার পাণ্ডে, গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদব, স্কোয়াড্রন লিডার অজয় আহুজা এবং রাইফেলম্যান সঞ্জয় কুমারদের বীরত্বের কথা সবার স্মরণে রয়েছে। তবে এই যুদ্ধের বিপরীতে পাকিস্তানের চরম কাপুরুষোচিত ও নীতিহীন মানসিকতার পরিচয় মিলেছিল, যার কোনো পরিবর্তন আজও ঘটেনি।
নীতিহীন মানসিকতার পরিচয়(Kargil War 1999)
যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকার তাদের নিয়মিত সেনাবাহিনীর মৃতদেহগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল। তাদের সামরিক বাহিনী যে সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িত—রাজনৈতিকভাবে এই সত্য গোপন করতেই তারা এই পদক্ষেপ নেয়। ফলস্বরূপ, ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত পাকিস্তানি সৈন্যদের পূর্ণ সামরিক মর্যাদা ও ইসলামিক রীতি মেনে ভারতের মাটিতেই সমাহিত করার ব্যবস্থা করে।

মিলিটারি ডাইজেস্ট ও বর্তমান প্রেক্ষাপট(Kargil War 1999)
কার্গিল যুদ্ধের প্রায় ২৭ বছর পরেও এই সৈন্যদের অনেকের সমাধি আজও ভারতীয় মাটিতে সযত্নে রয়ে গেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণ ও ‘মিলিটারি ডাইজেস্ট’-এ (Military Digest) যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য
মর্যাদাপূর্ণ সমাধি(Kargil War 1999)
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিজেদের সেনাদের মৃতদেহ ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর, ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় মৌলভিদের মাধ্যমে জানাজা সম্পন্ন করে ধর্মীয় রীতি মেনে তাদের সমাহিত করে।
চিহ্নিত ও অচিহ্নিত সমাধি(Kargil War 1999)
অনেক পাকিস্তানি অফিসার ও সৈন্য—যেমন ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসিব হায়দার, মেজর আব্দুল ওয়াহাব এবং ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ আম্মার হুসেন; যারা পরবর্তী সময়ে সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পদক (যেমন: সিতারা-ই-জুরাত) পেয়েছিলেন, তাঁদের মৃতদেহও পাকিস্তান কখনও দাবি করেনি। ফলে তাঁরা এখনও যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন স্থানে চিহ্নিত বা অচিহ্নিত পাথরের নিচে সমাহিত আছেন।
রাজনৈতিক অস্বীকৃতি(Kargil War 1999)
যুদ্ধের সময় পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, কাশ্মীরের স্থানীয় বিদ্রোহীরাই এই যুদ্ধ করছে এবং তাদের কোনো সেনা এতে অংশ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে পারভেজ মোশাররফসহ অন্যান্য পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এই যুদ্ধে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও, নিখোঁজ ও নিহত সৈন্যদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ পাকিস্তান সরকার আর নেয়নি।

এই কারণেই আজও পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ উগরে দেয়। তবে একটি বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই—১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দেশভাগের তীব্র যন্ত্রণা দিয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হলেও, ভারতের গৌরবময় অস্তিত্ব অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও চিরকাল অটুট থাকবে।

