Health Service
Bengal Liberty
রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার (Health Service)। সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ডিউটির সময়ে কোনও চিকিৎসক বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তী হয়ে নির্ধারিত সময় হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর Health Service
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের মূল দায়িত্ব সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা। তাই ডিউটি আওয়ার্সে প্রাইভেট প্র্যাকটিস কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক চিকিৎসকদের সপ্তাহে ন্যূনতম ৯৬ ঘণ্টা হাসপাতালে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার জন্যই চিকিৎসকদের বেতন দেওয়া হয়। ফলে অফিস সময়ের মধ্যে বাইরে রোগী দেখা আইন ও নীতির পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, কোনও চিকিৎসক যদি ডিউটির সময় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে ধরা পড়েন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়ম আরও কঠোর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে বিহার সরকারও সরকারি চিকিৎসকদের ডিউটির সময়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধে একই ধরনের কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল।

এদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি নবান্ন যাওয়ার পথে আচমকাই স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে মনিটরিং ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি। দ্বিতীয় তলার কেন্দ্রীয় মনিটরিং রুম পরিদর্শন করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা আরও কার্যকর করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্রীয় মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। চলতি মাসের মধ্যেই মহকুমা স্তরের সমস্ত সরকারি হাসপাতালকে এই নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলিকে দালালচক্রমুক্ত করার ওপরও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর উদ্যোগে ২ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

