chandra basu vs Subhas Chandra Bose
বিট্টু রায়চৌধুরী, Bengal Liberty: ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ভারতের কাছে আগামীদিনের জন্য বড় বিপদ।’ গান্ধিকে শেষ চিঠিতে এমনটাই লিখেছিলেন দেশনায়ক নেতাজি সুভাষ বসু। স্বাধীন ভারতে দাঁড়িয়ে মার্কিন গুপ্তরাষ্ট্রের অঙ্গুলিহেলনে এবার নেতাজিকে মৃত প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠলেন পরিবারের সদস্যরা। জানা যাচ্ছে, গত নভেম্বর মাসে চন্দ্র বসু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন করেন যে, রেনকোজি মন্দিরে থাকা তথাকথিত ‘চিতাভস্ম’ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। যদিও, এই মর্মে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কোনও উত্তর মেলেনি। তবে, চন্দ্র এবং সূর্য বসু চাইছেন, ২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে চিতাভস্ম ভারতে আনা হোক। বলা বাহুল্য, ‘মুখার্জি কমিশন’ বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়েছে। ‘তাইওয়ান রিপোর্ট’ও একই দাবি করছে। তারপরও কেন নেতাজির মৃত্যু নিশ্চিত করতে এই ষড়যন্ত্র?

চন্দ্র বসুর ‛হ্যাঁ’ (Subhas Chandra Bose)
বিষয়টা নিয়ে চন্দ্রবাবুর সঙ্গে প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। পরে টেক্সটে জানান, তাঁর তরফে মোদির কাছে চিতাভস্ম ফিরিয়ে আনার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভারত সরকারের কাছে থাকা ‘তাইওয়ান রিপোর্ট’ সরকারিভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এই নিয়ে নেতাজি ভক্তরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ‘মুখার্জি কমিশন’-এর রিপোর্ট সংসদে ‘টেবিল’ করার পক্ষেও সওয়াল করছেন তাঁরা। কিন্তু, দেশের সরকার কোন অজ্ঞাত কারণে নেতাজি নিয়ে কোনও আলোচনা চাইছে না? যেখানে ‘মুখার্জি কমিশন’ বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে কেন মোদি চন্দ্রবাবুর আবেদন শুনলেন?

ভুয়ো চিতাভস্ম দেশে এলে কি ঘটবে?(Subhas Chandra Bose)
এতে প্রমাণ করা সহজ হবে যে, নেতাজি বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। কংগ্রেসের পোষ্য ‘শাহনাওয়াজ কমিটি’, ‘খোসলা কমিশন’-এর ভিত্তিহীন যুক্তি ‘সত্য’ প্রমাণিত হবে। মার্কিন গুপ্তরাষ্ট্রগুলো নেতাজির প্রতি তাদের আক্রোশ মিটিয়ে নিয়ে সক্ষম হবে। কারণ, গান্ধিকে লেখা শেষ চিঠিতে নেতাজি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে আগামী দিনের ‘শত্রু’ হিসাবে চিহ্নিত করে গিয়েছেন। এছাড়াও, নেতাজির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তত্বটাকে সামনে রেখে পরিবারের একাংশ যে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে ব্যবসা ফেঁদে ফেলেছেন, সেটা ভেস্তে যাবে।

কংগ্রেস এবং মার্কিন পুতুল বসু পরিবারের একাংশ (Subhas Chandra Bose)
যে কংগ্রেস নেতাজিকে অপমান করেছে, যে গান্ধি নেতাজির কর্মকাণ্ডকে সার্কাসের সঙ্গে তুলনা করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেননি, সেই ‘হাত শিবির’-এ নাম লিখিয়েছিলেন শিশির বসু। এছাড়াও, কৃষ্ণা বসু, সুগত বসু তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেতাজির আদর্শকে ধূলোয় মিলিয়ে দিয়েছেন। ভাবুন, যেখানে ‘কংগ্রেস’ শব্দটা রয়েছে, সেখানেই পা-বাড়িয়েছেন বসু পরিবারের একাংশ। এবার আসা যাক চন্দ্র বসুর কথায়। উনি কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। ফলে, এমনটা নয় তো যে, মার্কিন কোনও গুপ্তরাষ্ট্রের খপ্পরে পড়ে নেতাজিকে মৃত ঘোষণা করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন তিনি?
মোদি সরকার চুপ!(Subhas Chandra Bose)
সংসদে ‘মুখার্জি কমিশন’-এর রিপোর্ট কেন পুনরায় টেবিল করা হবে না? কেন সরকারিভাবে ‘তাইওয়ান রিপোর্ট’ প্রকাশ করা হচ্ছে না? কেন নেতাজিকে নিয়ে সংসদে কোনও আলোচনা-ই হচ্ছে না? কোনও উত্তর নেই! এরই মাঝে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতাজি সুভাষ বসুর তথাকথিত চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন শুনে কেন চুপ থাকছেন? প্রশ্ন নেতাজি অনুগামীদের। তা-হলে কি, মোদিও মার্কিন রাজনীতির কাছে বশ্যতা শিকার করে নিলেন? আমেরিকার ‘পুতুল’ চন্দ্র বসুর আবেদন চুপ করে শুনে নেওয়ার মানে তো তাই দাঁড়াচ্ছে!

