Suvendu Adhikari
Suvendu Adhikari

কাকদ্বীপকে আলাদা জেলা করার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, সুন্দরবনের উন্নয়নে বরাদ্দ ১২০০ কোটি

Bengal Liberty : পুজো মিটতেই সুন্দরবন সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কাকদ্বীপে সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের জনপরিষেবা প্রদান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে প্রশাসনিকভাবে ভাগ করে কাকদ্বীপকে আলাদা জেলা হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “দু’বছর পরে হলেও আমরা কাকদ্বীপকে জেলা করব এবং সুন্দরবনকে মডেল করব।” সুন্দরবনের দ্বীপগুলিকে পরিকাঠামোর মাধ্যমে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু অধিকারী।

এদিনের সভা থেকে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, “সুন্দরবনের ডেমোগ্রাফি পাল্টে দিয়েছে আগের সরকার।” উন্নয়নে আগের সরকার পর্যাপ্ত কাজ করেনি। তাঁর দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ হয়েছে ২০০ কোটি টাকারও কম, যার ৮০ শতাংশই চুরি হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান সরকার আট মাসের বাজেটে সুন্দরবনের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান তিনি। প্রথম পর্যায়ে ৫৫৩টি কাজের টেন্ডার হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২৬৪৯টি কাজ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তা নির্মাণ ও নদীবাঁধ মেরামতির জন্যও বরাদ্দের কথা জানান তিনি।

সুন্দরবনের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে আবাসন, কৃষি, মৎস্যচাষ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেন শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নতুন করে ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ২৪২টি বাড়ি তৈরি করা হবে। কোনো কাঁচাবাড়ি থাকবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি মুড়িগঙ্গা সেতু নিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ তুলে ২০২৯ সালে সেতুটির উদ্বোধনের প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সুন্দরবনের উন্নয়নকে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না রেখে ১৩টি ব্লকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার বলে জানান শুভেন্দু। সুন্দরবনকে আদর্শ উন্নয়ন মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও চান মুখ্যমন্ত্রী।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।