Bengal Liberty : গঙ্গাসাগর মেলার আগেই বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে এ রাজ্যে আশ্রয় নেওয়া যোগ্য শরণার্থীদের CAA-র শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, আগামী জানুয়ারির মধ্যে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া শুরু করার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কাকদ্বীপে সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের জনপরিষেবা প্রদান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শংসাপত্র দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং কাকদ্বীপের মহকুমাশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশ থেকে ধর্ম ও প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে শুভেন্দু বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যারা প্রাণ আর ধর্ম বাঁচাতে এসেছে, তারা কিন্তু অনুপ্রবেশকারী নয়। তারা শরণার্থী।” এরপরই প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, যোগ্য শরণার্থীদের দ্রুত CAA-র শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, শংসাপত্র পাওয়ার পর যোগ্য ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ দিনের সভা থেকে রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়! সেদিন যারা আমাকে পাথর ছুঁড়েছিল, কালো পতাকা দেখিয়েছিল, আজকে তারা বলছে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রী, আপনার জন্য আমরা অপেক্ষা করে বসে আছি।” এরপরই গণতন্ত্রে মানুষের সিদ্ধান্তের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে সভায় উপস্থিত মানুষের সমর্থন চান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও খবর
শুভেন্দু জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় আসবেন তিনি। আগামী ১০ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধন করতেও আসার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগেই যোগ্য শরণার্থীদের হাতে CAA-র শংসাপত্র তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি সুন্দরবনের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।


