Toxic Teaser Release 2026
Bengal Liberty,সিদ্ধার্থ দে:
১৯ মার্চ বক্স অফিসে যশের ‘টক্সিক’ তান্ডব(Toxic): বিতর্ক, ক্ল্যাশ এবং গীতু মোহনদাসের ম্যাজিক
ভারতীয় চলচ্চিত্রের মানচিত্রে যখনই কোনো বড় মাপের তারকার সিনেমা মুক্তির ঘোষণা হয়, তখন থেকেই শুরু হয় দিন গোনা। তবে ১৯ মার্চের গুরুত্ব অন্য সব দিনের চেয়ে আলাদা। এদিন বড় পর্দায় দেখা যাবে ‘রকিং স্টার’ যশের (Toxic)নতুন অবতার। তবে এই মুক্তি কেবল যশের প্রত্যাবর্তনের জন্যই নয়, বরং ছবির সাহসী কনটেন্ট, মহিলা পরিচালকের হাত ধরে এক ভিন্ন ধারার গল্প এবং বড় বাজেটের ছবির লড়াইয়ের কারণেও এখন টক অফ দ্য টাউন।
গীতু মোহনদাসের হাত ধরে এক ‘ভিন্ন’ যশ(yash)
‘টক্সিক’ সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক এর পরিচালক। সাধারণত যশের মতো মাস-অ্যাকশন হিরোদের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ধারার পুরুষ পরিচালকদেরই বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু এখানে প্রথা ভেঙে যশ হাত মিলিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তথা পরিচালক গীতু মোহনদাসের(Geetu Mohandas) সাথে। গীতু মূলত তার শৈল্পিক এবং বাস্তববাদী সিনেমা তৈরির জন্য পরিচিত (যেমন: ‘লায়ার্স ডাইস’ বা ‘মুথন’)।
একজন মহিলা পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গিতে যশের এই মারকুটে চরিত্রটি কীভাবে ফুটে উঠবে, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল রয়েছে। গীতু মোহনদাসের পরিচালনার মুন্সিয়ানা এবং যশের স্ক্রিন প্রেজেন্স—এই দুইয়ের মেলবন্ধন ‘টক্সিক’কে সাধারণ বাণিজ্যিক সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক উচ্চস্তরে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

১৮+ দৃশ্য ও সেন্সর বিতর্ক (Toxic)
সিনেমাটির ট্যাগলাইন হলো ‘A Fairy Tale for Grown-ups’ (বড়দের জন্য এক রূপকথা)। টাইটেল এবং ট্যাগলাইন থেকেই স্পষ্ট যে এটি বাচ্চাদের জন্য নয়। সম্প্রতি খবর ছড়িয়েছে যে, সিনেমায় এমন কিছু সাহসী এবং ভায়োলেন্ট দৃশ্য রয়েছে যার জন্য সেন্সর বোর্ড থেকে একে ‘A’ বা ‘১৮+’ সার্টিফিকেট দেওয়া হতে পারে।
সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যগুলো অত্যন্ত রিয়্যালিস্টিক এবং ডার্ক করার চেষ্টা করা হয়েছে। যশের চরিত্রে একটি গ্রে-শেড (Grey Shade) বা ধূসর ভাব রয়েছে, যা ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে বেশ কিছু জায়গায় অত্যন্ত রূঢ় ভাষা এবং মারকাটারি দৃশ্য ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও একটি পক্ষ মনে করছে এই বিতর্ক সিনেমার প্রচারে সাহায্য করবে, অন্য পক্ষ মনে করছে ফ্যামিলি অডিয়েন্স হারানো যশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে পরিচালকের দাবি, গল্পের প্রয়োজনে কোনো আপস করা হয়নি।

বক্স অফিসে মহাযুদ্ধ: ‘টক্সিক’ বনাম ‘ধুরন্দর ২'(Toxic vs Dhurandar 2)
১৯ মার্চের লড়াইটা কেবল যশের একার নয়। বক্স অফিসে একই দিনে মুক্তি পেতে চলেছে বিগ বাজেট অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্দর ২’ (Dhurandhar 2)। ‘ধুরন্দর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম ভাগ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এর দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে দর্শকদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে।
একদিকে যশের প্যান-ইন্ডিয়া স্টারডম, অন্যদিকে একটি প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজির সিক্যুয়েল—এই দুইয়ের সংঘর্ষে ১৯ মার্চ বক্স অফিসে সুনামি আসা নিশ্চিত। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, স্ক্রিন শেয়ারিং এবং শো টাইমিং নিয়ে দুই প্রযোজক সংস্থার মধ্যে লড়াই হবে দেখার মতো। কোন ছবি দর্শকদের মন জয় করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যশের নতুন লুক এবং চরিত্র
‘কেজিএফ’-এর রকি ভাইয়ের লুক থেকে বেরিয়ে এসে ‘টক্সিক’-এ যশকে দেখা যাচ্ছে এক স্টাইলিশ অথচ রুক্ষ গেটআপে। বড় চুল, ছোট দাড়ি এবং রেট্রো ভাইব নিয়ে তার পোস্টার ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। জানা গেছে, ছবিতে তিনি একজন ড্রাগ লর্ড বা মাফিয়া জগতের এমন এক মানুষের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার নীতিবোধ আলাদা।

কেন দেখবেন ‘টক্সিক’?(Toxic)
* যশের প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ বিরতির পর যশের অ্যাকশন দেখার সুযোগ।
* গীতু মোহনদাসের পরিচালনা: শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কমার্শিয়াল মশলার মিশ্রণ।
* অ্যাডাল্ট থিম: বড়দের জন্য একটি গভীর এবং ডার্ক ফ্যান্টাসি গল্প।
* অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি: আন্তর্জাতিক মানের স্টান্ট এবং লড়াই
