Gita Path in Kolkata
ঋ রায়, Bengal Liberty: হিন্দু-মুসলমান বিভেদ নয়। উল্টে গীতা (Gita) পাঠের মধ্যে দিয়ে ‘হিন্দু-মুসলিম ভাইভাই’-এর বাস্তবায়ন ঘটতে চলেছে আগামী রবিবার। ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকছেন মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ। ৫০ জনের বেশি ইমামকে আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে আহ্বানজানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন সংখ্যালঘু রাষ্ট্রবাদী মুসলমানরা। যে রাজ্যে ইসলাম সম্প্রদায়ের মানুষদের ‘তেজপাতা’, ‘দুধেল গাই’, ‘ভোট ব্যাংক’ হিসাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পথে নেমেছে, সেখানে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে তাঁদের পাশে পেয়ে খুশি ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’।

গীতা পাঠে কর্মসূচির সমাপ্তিকালে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘হে পার্থসারথি’ গানটি মঞ্চ থেকে গাওয়া হবে। এখানেই মূল অনুষ্ঠানের স্বার্থকতা বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। কারণ, এটা লালন ফকিরের বাংলা। এখানে নজরুল ‘শ্যামা সংগীত’ রচনা করেছেন। এখানে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন উৎসব পলন করেছিলেন। তাই, এই বাংলা যে ধর্মীয় বিভাজনকে বরদাস্ত করে না, সেই বার্তা সংশ্লিষ্ট গীতা পাঠ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য (Gita)
৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকছেন― বাবা রামদেব, বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, কার্তিক মহারাজ এবং অন্যান্য সাধু-সন্তরা। কর্মসূচি অনুযায়ী ৭ তারিখ সকাল ৮টায় বেদ পাঠ করবেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তারপর থাকছে ভক্তিগীতি। সকাল ৯টায় মঞ্চের সামনে হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। কীর্তন, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে সহকারে হবে গীতা স্থাপন। ১০টায় ‘পার্থসারথী’ অর্থাৎ, মূল মঞ্চে ১৫০ জন স্বামীজির উপস্থিতি চাক্ষুষ করা যাবে। ৯:৩০ থেকে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। চলবে সকাল ১১টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে গীতার প্রথম, নবম ও শেষ অধ্যায় পাঠ হবে।
এই অনুষ্ঠানে মোট ২৫টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। প্রবেশ অবাধ। উদ্যোক্তাদের তরফে আগত জনগণকে সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরে হাজির হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, গীতা পাঠের মধ্য দিয়েই রাজ্যে চলা সম্প্রদায়িক বিভেদ দূর করা সম্ভব।
