Rohit Kohli
Bengal Liberty Desk, ২৪ ডিসেম্বর, কলকাতা: ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ- রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। বিশ্ব ক্রিকেটের আঙিনায় তাঁদের ব্যাট যখন কথা বলে, তখন রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলটপালট হওয়াটা কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। দীর্ঘ বিরতির পর ঘরোয়া ক্রিকেটের আঙিনায় প্রত্যাবর্তন করে তাঁরা বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁদের ‘কিং’ এবং ‘হিটম্যান’ বলা হয় (Rohit Kohli)। বিজয় হজারে ট্রফির মঞ্চে একই দিনে দুই মহাতারকার শতরান ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এক ঐতিহাসিক উপহার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন (Rohit Kohli)
চলতি বছরের শুরুতেই খবর ছিল যে, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি নিজ নিজ রাজ্যের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মাঝে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁদের উপস্থিতি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি ভক্তদের কাছেও বড় পাওনা। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন এর থেকে ভালো আর হতে পারত না। দিল্লি এবং মুম্বইয়ের হয়ে খেলতে নেমে তাঁরা যেন বুঝিয়ে দিলেন, বাইশ গজে তাঁদের ক্ষুধা আজও আগের মতোই অটুট।

কোহলির ব্যাটে সচিনের রেকর্ড ব্রেক: নতুন উচ্চতায় বিরাট
কোহলি এবং সচিন তেন্ডুলকর- একজন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’, অন্যজন আধুনিক যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যাটার। সচিনের করা একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করাটাই যেন বিরাটের নেশা। বিজয় হজারে ট্রফিতে এদিন শতরান করার পথে লিস্ট-এ ক্রিকেটে সচিন তেন্ডুলকরকে টপকে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন বিরাট।
সচিনকে টপকানোর তাৎপর্য
সচিন তেন্ডুলকর ভারতীয় ক্রিকেটের এমন এক শিখর যা ছোঁয়া অসম্ভব মনে হতো। কিন্তু কোহলি তাঁর ফিটনেস, টেকনিক এবং মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করছেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে শতরানের নিরিখে সচিনকে পেছনে ফেলে কোহলি এখন কিংবদন্তিদের তালিকায় আরও উপরে। বিরাটের ইনিংসটি ছিল ধ্রুপদী ঢঙে সাজানো। উইকেটের চারদিকে নিখুঁত সব শট খেলে তিনি যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন, গ্যালারিতে তখন শুধুই ‘কোহলি কোহলি’ গর্জন।
রোহিতের ‘হিটম্যান’ অবতার: ওয়ার্নারের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ভারত অধিনায়ক
একদিকে কোহলি যখন সচিনের রেকর্ড ভাঙছেন, অন্যদিকে রোহিত শর্মাও পিছিয়ে থাকার পাত্র নন। ওপেনার হিসেবে রোহিত শর্মার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। এদিন বিজয় হজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের হয়ে বিধ্বংসী এক শতরান করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের একটি বড় রেকর্ড স্পর্শ করলেন।
ওয়ার্নারকে ছোঁয়ার মাহাত্ম্য
সাদা বলের ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে ওয়ার্নার অন্যতম সফল ক্রিকেটার। লিস্ট-এ ফরম্যাটে ওপেনার হিসেবে সবথেকে বেশি শতরান বা দ্রুততম মাইলফলক ছোঁয়ার লড়াইয়ে রোহিত এখন ওয়ার্নারের পাশে। রোহিতের ইনিংসের বিশেষত্ব ছিল তাঁর পরিচিত সেই মেজাজ- শুরুতে কিছুটা সময় নেওয়া এবং থিতু হওয়ার পর বোলারদের তুলোধনা করা। তাঁর ট্রেডমার্ক পুল শট এবং বড় ছক্কাগুলো দর্শকদের স্মৃতিতে টাটকা হয়ে থাকবে।
‘রো-কো’ জুটির আধিপত্য:
ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালী দিন
একই দিনে দুই মহারথীর সেঞ্চুরি ভারতীয় ক্রিকেটের গভীরতাকে তুলে ধরে। যদিও তাঁরা দুই আলাদা দলের হয়ে খেলছিলেন, কিন্তু ভারতীয় ভক্তদের কাছে এই জোড়া শতরান যেন একটি উৎসবের মতো। মাঠ আলাদা হতে পারে, কিন্তু তাঁদের ব্যাটের তেজ ছিল এক।
• বিরাটের ইনিংস: স্থিরতা, উইকেটের মাঝে দৌড় এবং গ্যাপ খুঁজে বের করার দক্ষতা।
• রোহিতের ইনিংস: পাওয়ার হিটিং, ক্লিন টাইমিং এবং বোলারদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করা।
এই দুই তারকার ফর্মে ফেরা কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় জাতীয় দলের আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য বড় স্বস্তি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন ও তরুণদের শিক্ষা
রোহিত ও কোহলির মতো ক্রিকেটাররা যখন বিজয় হজারে ট্রফিতে খেলেন, তখন টুর্নামেন্টের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।
১। অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান: ড্রেসিংরুমে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা তাঁদের আদর্শদের কাছ থেকে সরাসরি অনেক কিছু শিখতে পারেন।
২।মানসিকতা: আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার যে তীব্রতা বা ইনটেনসিটি থাকে, তা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়ে আসাটাই কোহলি-রোহিতের বিশেষত্ব।
৩. বিপ বিপক্ষ বোলারদের চ্যালেঞ্জ: উঠতি বোলারদের কাছে এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা। রোহিত-কোহলিকে বল করা মানে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করে নেওয়ার সেরা সুযোগ।
রেকর্ড বুক যা বলছে
পরিসংখ্যানের বিচারে এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
• বিরাট কোহলি: লিস্ট-এ ক্রিকেটে সচিন তেন্ডুলকরের নির্দিষ্ট কিছু মাইলফলক অতিক্রম করে সর্বোচ্চ শতরানকারীর তালিকায় নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন।
• রোহিত শর্মা: ওপেনার হিসেবে বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে ডেভিড ওয়ার্নারকে স্পর্শ করলেন।
অনেকে মনে করেন, রোহিত ও বিরাটের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই রয়েছে। কিন্তু এই জোড়া শতরান প্রমাণ করে যে, তাঁরা একে অপরের রেকর্ড ভাঙার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত নন, বরং দুজনেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য ক্ষুধার্ত।
আগামীর বার্তা:
বিজয় হজারে ট্রফিতে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির এই ‘ডাবল ধামাকা’ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক শুভ সংকেত। সচিন তেন্ডুলকরকে টপকানো বা ওয়ার্নারের রেকর্ডে ভাগ বসানো কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি তাঁদের ত্যাগের ফল। ক্রিকেট প্রেমীরা আরও একবার নিশ্চিত হলেন যে, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুই কিংবদন্তি এখনও ফুরিয়ে যাননি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁদের এই রাজকীয় উপস্থিতি যেমন টুর্নামেন্টকে রাঙিয়ে দিল, তেমনই আগামীর বড় টুর্নামেন্টগুলোর আগে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে এক প্রকার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখল। দিনটি ছিল শুধুই ‘রো-কো’ ম্যাজিকের।
