RG Kar Doctor Case 2024
Bengal Liberty, Kolkata:
আরজি কর মেডিক্যাল(RG Kar Doctor Case 2024) কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক-ছাত্রী ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে ফের নতুন প্রশ্ন সামনে আনলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশ এবং সিবিআই দুই পক্ষের ভূমিকাই পুনরায় খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।
পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যোগ রয়েছে কি না, সেটাও বিচারিকভাবে পরীক্ষা করা হোক এমন দাবিও তুলেছে পরিবার।
আদালতে আবেদন ও শুনানির অপেক্ষা RG Kar Doctor Case 2024
মঙ্গলবার নির্যাতিতার বাবা-মা তাঁদের আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে শিয়ালদহ আদালতে যান এবং এই মর্মে আবেদন জমা দেন। তাঁদের বক্তব্য, এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তদন্তের বাইরে থেকে গিয়েছে। সেই সমস্ত বিষয় সামনে আনতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে এই আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট RG Kar Doctor Case 2024
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালের(RG Kar Doctor Case 2024) ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের ভিতরে এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এই মামলায় কলকাতা পুলিশের এক সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার ও করা হয়। এবং পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাছ থেকে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তদন্তের পর শিয়ালদহ আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই, যেখানে একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়। ইতিমধ্যেই নিম্ন আদালত এই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
তদন্ত নিয়ে পরিবারের অসন্তোষ RG Kar Doctor Case 2024
তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। পরিবারের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার পরিবার, অথচ অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিজেদের কাজ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছে।
স্টেটাস রিপোর্ট ঘিরেও নতুন প্রশ্ন RG Kar Doctor Case 2024
গত মাসে এই মামলায় অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট শিয়ালদহ আদালতে জমা দেয় সিবিআই। কিন্তু সেই রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলে পরিবার। তাঁদের আইনজীবী দাবি করেন, রিপোর্টে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রমাণ নেই। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয় কেন নির্যাতিতার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি? এবং তদন্তে অন্যকাউকে আড়াল করা হচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পরিবার। যদিও এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বা হবে না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তদন্তকারী সংস্থার নিজস্ব বিষয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর বাড়ছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিস্তৃত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আড়ালে না থাকে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, আইন নিজের পথেই এগোচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থার উপর আস্থা রাখা উচিত। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলার অগ্রগতি ভবিষ্যতে রাজ্য রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
