Nagpur factory explosion
Bengal Liberty Desk:
রবিবার সকালে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের একটি বারুদ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎ প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, তারপরই কারখানা থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন, কিন্তু ততক্ষণে বহু শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৮ জন শ্রমিক মারা গেছেন বলে খবর। একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের কথায়, বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কারখানার ছাদ উড়ে যায় এবং শ্রমিকদের দেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক দেহ এতটাই ঝলসে গিয়েছিল যে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল। পরে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)।

ডিটোনেটর প্যাকিং শাখায় বিস্ফোরণ Nagpur factory explosion
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কারখানার ডিটোনেটর প্যাকিং শাখাতেই বিস্ফোরণটি হয়। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।
ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র সরকার মৃতদের পরিবারের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের পর মহারাষ্ট্র Nagpur factory explosion
উল্লেখ্য, এর ঠিক একদিন আগেই অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলার ভেটলাপালেম গ্রামে একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও বাজি তৈরির উপকরণ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনায় অন্তত ২০ জন শ্রমিকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়।এক দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি কারখানা বিস্ফোরণের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

