Rahul Arunoday Banerjee death
Bengal Liberty, Kolkata :
হঠাৎ করেই যেন থমকে গেছে বিজয়গড় (Rahul Banerjee viral article)। নিস্তব্ধ পাড়া, ভারী হয়ে থাকা বাতাস সব জায়গায় একটাই নাম, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রাতের সেই মর্মান্তিক খবরের পর থেকে সোমবার সকালেও তাঁর বাড়ির সামনে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। টলিউডের একের পর এক পরিচিত মুখ আসছেন শেষবারের মতো দেখতে তাঁদের প্রিয় ‘বাবিন’-কে। আর রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ নিঃশব্দে বিদায় জানাচ্ছেন তাঁদের প্রিয় অভিনেতাকে।
একদিকে শোকস্তব্ধ বাস্তব, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসছে এক রহস্যময় অতীত যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

অভিনেতা নয়, এক সংবেদনশীল লেখকও ছিলেন রাহুল
অভিনয়ের বাইরেও লেখালিখিতে ছিল তাঁর গভীর টান। কবিতা, প্রবন্ধ শব্দের ভেতর দিয়ে তিনি গড়ে তুলতেন এক আলাদা জগৎ। সহজ ভাষায় গভীর অনুভূতি প্রকাশ করার এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। এই আবেগপ্রবণ মানুষটির একটি পুরনো লেখা এখন ফের আলোচনায়।

২০১৮-র সেই লেখা—যেখানে ‘মৃত্যু’ ছিল মূল চরিত্র
২০১৮ সালে আর্টিস্ট ফোরামের ‘বাতায়ন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল রাহুলের একটি প্রবন্ধ—‘বান্ধবীরা’।
সম্প্রতি সেই লেখার কিছু অংশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। লেখার শুরুতেই উঠে আসে এক অদ্ভুত দৃশ্য—মৃত্যুর পর নিজের অস্তিত্বকে যেন বাইরে থেকে দেখছেন তিনি। আত্মা দেহ ছাড়িয়ে চারপাশকে পর্যবেক্ষণ করছে এমনই এক কল্পনা তিনি তুলে ধরেছিলেন তাঁর কলমে।
সবচেয়ে বেশি নাড়িয়ে দিচ্ছে একটি লাইন – “বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়স নয়…”
শুধু তাই নয়, লেখার ভেতরে জলের সঙ্গে মৃত্যু, হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া এই ধরনের ইঙ্গিতও রয়েছে বলে দাবি নেটিজেনদের একাংশের।
কাকতালীয় নাকি অদ্ভুত পূর্বাভাস?
বাস্তবের সঙ্গে এই লেখার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।
কারণ, তালসারির সমুদ্রে শুটিং চলাকালীন জলে নামার পরই ঘটে সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তাই প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই সাহিত্যিক কল্পনা?নাকি অবচেতনে নিজের পরিণতির ছবি এঁকেছিলেন তিনি?
২০১৮-তেই কি এক অদ্ভুত অনুভূতি ধরা পড়েছিল তাঁর লেখায়?
নেটপাড়ায় শোরগোল
এই লেখা সামনে আসতেই আলোড়ন পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যিনি প্রবন্ধটির অলংকরণ করেছিলেন, সেই শিল্পীও বিস্ময় প্রকাশ করে নিজের পেজে তা শেয়ার করেছেন। অনেকেই বলছেন—“এটা নিছক কাকতালীয় নয়, গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো এক বাস্তবতা।”
জীবন আর মৃত্যুর মাঝের এই অদ্ভুত মিল আজ আরও গভীর করে দিচ্ছে শোকের অনুভূতিকে। একজন অভিনেতা হারালেন টলিউড, আর একজন সংবেদনশীল মানুষকে হারাল তাঁর প্রিয়জনেরা। তবে রয়ে গেল তাঁর কাজ, তাঁর লেখা… আর কিছু না মেলানো প্রশ্ন।
