Ranaghat Attack
Bengal Liberty:
চুরির কোনো উদ্দেশ্য নেই, আলমারি বা লকার ছোঁয়াই হচ্ছে না। মাঝরাতে টার্গেট কেবল বাড়িতে একা থাকা মাঝবয়সী বা বৃদ্ধা মহিলারা (Ranaghat Attack)। মধ্যরাতে জানলার গ্রিল কেটে বা টিনের চাল ফুঁড়ে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মহিলার মাথা ও মুখ লক্ষ্য করে নামছে ভারী ইটের আঘাত! বিগত কয়েক মাস ধরে নদিয়া জেলার রানাঘাট মহকুমায় একের পর এক এই ধরণের রহস্যময় ও নৃশংস হামলার জেরে ফিরে এসেছে বহু পুরোনো ‘স্টোনম্যান’-এর স্মৃতি। আতঙ্কে ঘুম উড়েছে এলাকার বাসিন্দাদের। বেশ কয়েকদিন থেকে মাঝরাতেও রানাঘাটের পায়রাডাঙ্গায় এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা ঘিরে নতুন করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য।

ফিরছে ‘স্টোনম্যান’-এর আতঙ্ক Ranaghat Attack
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে পায়রাডাঙ্গার বাসিন্দা মনু বিশ্বাস (৫৬) নামের এক বৃদ্ধার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। মনুদেবীর স্বামী সারদা বিশ্বাস কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন এবং ছেলে পঙ্কজ বিশ্বাস নিজের পরিবার নিয়ে কাছেই অন্য একটি বাড়িতে থাকেন। ফলে বাড়িতে একাই থাকতেন ওই বৃদ্ধা। আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে ঘরের টিনের চাল কেটে ভেতরে ঢোকে হামলাকারী। এর পর ঘুমন্ত মনুদেবীর মাথা ও মুখ লক্ষ্য করে ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়। রক্তাপ্লুত অবস্থায় ভোররাতে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

চুরি নয়, লক্ষ্য শুধু প্রাণঘাতী হামলা!
আক্রান্তের ছেলে পঙ্কজবাবু জানান, “মা একা থাকার সুযোগেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মায়ের মুখে ও মাথায় ভয়ঙ্কর আঘাত লেগেছে। আদৌ মাকে সুস্থ শরীরে ফিরে পাব কি না জানি না।” তিনি আরও জানান, ঘর থেকে কোনো টাকাপয়সা বা অলঙ্কার চুরি যায়নি। এই চুরির উদ্দেশ্যহীন মারধরই ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিগত দু’মাসের মধ্যে রানাঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় অন্তত চার থেকে পাঁচ জন একলা মহিলার ওপর ঠিক একই কায়দায় মাঝরাতে হামলা চালানো হয়েছে।
আক্রান্তদের প্রত্যেরই বয়স পঞ্চান্ন থেকে ষাটের ঊর্ধ্বে। প্রতি ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীরা সর্বস্ব লুঠ করার বদলে কেবল প্রাণে মারার উদ্দেশ্য নিয়ে মাথায় ভারী বস্তু বা ইট দিয়ে আঘাত করছে। মাঝে তিন-চার মাস এই ধরণের ঘটনা বন্ধ থাকলেও, শুক্রবার রাতের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে সেই অজ্ঞাত আততায়ী আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
রহস্যময় এই হামলার নেপথ্যে কোনো একজন নির্দিষ্ট ‘সাইকো কিলারের’ হাত রয়েছে, নাকি এর পিছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে— তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় তদন্তকারীরা।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, পূর্ববর্তী ঘটনাগুলির সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। অপরাধী বা অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একের পর এক রক্তক্ষয়ী হামলার জেরে রানাঘাটের গ্রামগুলিতে এখন পুরুষদের লাঠি হাতে রাতপাহারা দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত এই রহস্যের জট না খুললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রানাঘাটে এলাকার বাসিন্দারা।

