NATO Summit 2026
Bengal Liberty
আগামীকাল, ৭ জুলাই(NATO Summit 2026) থেকে তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে চলেছে দুদিনের ঐতিহাসিক ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলন। আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত চলতে থাকা এই সম্মেলনে জোটের মোট ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনে ইউক্রেন সংকট, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জোরালো আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্মেলনের আগেই আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা


২২ বছরে প্রথমবার তুরস্কের মাটিতে আয়োজিত হচ্ছে ন্যাটোর এই শীর্ষ সম্মেলন। আর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বড়সড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। এবারের সম্মেলনের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইউক্রেনের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের নতুন আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রস্তাব। তবে কূটনীতিবিদদের মতে, মূল সম্মেলনের ভেতরের আলোচনার চেয়েও এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে চর্চা বেশি হচ্ছে—যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ বিরল।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা(NATO Summit 2026)
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ১৫০০ দিনেরও বেশি অতিক্রম করে গেছে, অথচ এখনও এর কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। সম্প্রতি তেল শোধনাগারে হামলার প্রতিশোধ নিতে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালিস্টিক হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সমীকরণ আগামীদিনে কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।
পাশাপাশি, এই যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং কোনও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে বিশ্ব। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কৌশল ও বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা নিরাপত্তাজনিত হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোর সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে এই সম্মেলনে।


গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের শীর্ষ নেতারা সশরীরে উপস্থিত থাকছেন। এর পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সহযোগী দেশ হিসেবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের এই ন্যাটো সম্মেলন থেকে কোন নতুন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণ উঠে আসে, এখন সেদিকেই চোখ রয়েছে সারা বিশ্বের।

