PoK Crisis
Bengal Liberty
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) নতুন(PoK Crisis) করে চরম উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিগত কয়েকদিন ধরেই সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনার দফায় দফায় সংঘর্ষ লেগেই আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও আন্দোলনকারীদের তীব্র ক্ষোভ। সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশটুকুও আর অবশিষ্ট নেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে।


এই চূড়ান্ত অশান্তির আগুনের মধ্যেই পাকিস্তানি সেনা সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে বর্বরতার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ৬০০-র বেশি মানবাধিকার কর্মী গ্রেফতার, নির্বিচারে গুলি পাকিস্তানি সেনার নৃশংসতা এখন চরমে। ৬০০-র বেশি মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করার পর, গত রবিবার বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে। এই হামলায় এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
পিটিআই-এর দাবি অনুযায়ী(PoK Crisis)
“অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও আটকে রাখা কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যেখানে অংশ নিয়েছিলেন শয়ে শয়ে মানুষ, যাদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, মীরপুর জেলায় এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন পাক পুলিশ ও রেঞ্জার্সরা বলপ্রয়োগ করে ভিড় হঠানোর চেষ্টা করে। এরপর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে পাকিস্তানি সেনা।”
এদিকে এই ভয়ঙ্কর ঘটনার খবর সামনে আসতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে কাশ্মীরের স্থানীয় সংগঠনগুলো। ‘কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শুধু তাই নয়, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারের মানুষ এখন সরাসরি স্বাধীন কাশ্মীরের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।
আরো পড়ুন:-
Mexico vs England: বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

কয়েকদিন আগেও জেএএসি-র শীর্ষ নেতা আমান খান প্রকাশ্যেই এক বিস্ফোরক দাবি তোলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সাধারণ কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার চালাতে পাকিস্তানি সেনা সেখানে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও অত্যাচার কমেনি, উল্টো তা যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
কাশ্মীরের আঁচ ব্রিটেনে(PoK Crisis)
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি গিয়ে পৌঁছেছে ব্রিটেনে। সেখানে বসবাসকারী হাজার হাজার কাশ্মীরি, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন।

‘লন্ডন কাশ্মীর মিলিয়ন মার্চ’ নামের এই পদযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ পার্লামেন্ট স্কয়ার থেকে লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশন পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন। মিছিলে বিক্ষোভকারীরা অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন এবং যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (JAAC) প্রধান শওকত নওয়াজ মীরসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। কাশ্মীরের এই নতুন স্বাধীনতার লড়াই আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে কোন নতুন সমীকরণের সৃষ্টি করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

