Madrasa teacher
Bengal Liberty:
পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Madrasa)। সোমবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহর ডিভিশন বেঞ্চ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দায়ের করা একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে দেয়। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারের অনুমতি এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনও স্বীকৃত মাদ্রাসায় নিয়োগ করা যাবে না।

মাদ্রাসায় নিয়োগে মানতেই হবে আইনি প্রক্রিয়া
আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সরকারি মাদ্রাসা পরিচালন পর্ষদ এবং পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বিধি মেনেই শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের নিয়োগ করতে হবে। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি একতরফাভাবে এই নিয়োগ করতে পারে না।
বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের প্রকৃত অধিকার কার—মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির, নাকি পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের? এই প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চলছিল। সোমবারের রায়ে সেই বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান নিল শীর্ষ আদালত। রায়ে আদালত জানিয়েছে, আবেদনকারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটি ছিল। যে সময়ে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তখন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির বৈধ অনুমোদন বা আইনসম্মত পরিচালন কমিটি ছিল না। এ ছাড়া, ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন, ২০০৮’ কার্যকর হওয়ার পর যে নিয়োগগুলি হয়েছে, তার অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, ৩৫০ জনেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ১৩ জনের মামলার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে আদালতের মত—আবেদনকারীরা এমন কোনও আইনি ভিত্তি তুলে ধরতে পারেননি, যার প্রেক্ষিতে তাঁদের দাবি মঞ্জুর করা যায়। ফলে তাঁদের আবেদনে কোনও সারবত্তা নেই বলেই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলিতে ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার ও মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের ভূমিকা আরও সুনির্দিষ্ট হলো। একই সঙ্গে আদালত সাফ জানিয়ে দিল, নির্ধারিত আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে করা কোনও নিয়োগই বৈধ বলে গণ্য হবে না।

