Dev new film 'Bike Ambulance Dada'
Bengal Liberty Desk, ২৬ ডিসেম্বর, কলকাতা: টলিউডে দেব মানেই নতুন কোনও চমক। গত কয়েক বছরে তিনি নিজেকে যেভাবে ভেঙেছেন, তাতে দর্শকদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। একদিকে ‘খাদান’-এর মতো ডার্ক অ্যাকশন থ্রিলার, অন্যদিকে ‘রঘু ডাকাত’-এর মতো পিরিয়ড ড্রামা-দেব যেন নিজেকে প্রতি মুহূর্তে নতুন করে আবিষ্কার করছেন। কিন্তু এবার তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন, তা শুধু বিনোদন নয়, বরং মানবতা ও লড়াইয়ের এক দলিল। উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ এক মানুষ করিমুল হক, যিনি আজ সারা বিশ্বের কাছে ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ (Dev new film Bike Ambulance Dada) নামে পরিচিত, তাঁর জীবনকাহিনী এবার সেলুলয়েডে তুলে ধরবেন দেব।
টলিউড সুপারস্টার দেব এখন তাঁর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করছেন। ‘খাদান’, ‘রঘু ডাকাত’ কিংবা ‘প্রজাপতি ২’-এর মতো বড় বাজেটের কমার্শিয়াল ও ফ্যামিলি ড্রামার ঘোষণা দিয়ে তিনি যখন আলোচনার তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামনে এল এক চমকপ্রদ খবর। এবার কোনও কাল্পনিক হিরো নয়, বরং মাটির কাছাকাছি থাকা এক রক্তমাংসের মানুষের জীবন পর্দায় ফুটিয়ে তুলবেন দেব। তিনি আর কেউ নন- জলপাইগুড়ির ধলাবাড়ির ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ হিসেবে পরিচিত পদ্মশ্রী করিমুল হক (Dev new film Bike Ambulance Dada) ।
কে এই করিমুল হক? এক নিঃস্বার্থ নায়কের গল্প (Dev new film Bike Ambulance Dada)
করিমুল হকের এই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে এক বিষাদময় স্মৃতি। ১৯৯৫ সালে অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে তাঁর মা মারা যান। মায়ের সেই মৃত্যু করিমুলকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল, কিন্তু ভেঙে ফেলতে পারেনি। তিনি শপথ করেছিলেন, নিজের গ্রামের আর কাউকে যেন বিনা চিকিৎসায় মরতে না হয়।
পেশায় চা-বাগানের শ্রমিক করিমুল হকের সম্বল ছিল সামান্য। নিজের পুরনো বাইকটিকে তিনি বদলে ফেলেন এক অভিনব অ্যাম্বুলেন্সে। গত কয়েক দশকে কয়েক হাজার মানুষকে তিনি নিজের বাইকে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। ঝড়-জল-অন্ধকার উপেক্ষা করে জলপাইগুড়ির দুর্গম এলাকায় তাঁর বাইকের আওয়াজ মানেই হলো আশার আলো। এই নিঃস্বার্থ সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে ২০১৭ সালে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে।
কেন দেবের এই সিদ্ধান্ত (Dev new film Bike Ambulance Dada)?

দেব বরাবরই এমন গল্প পছন্দ করেন যা মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকে। ‘গোলন্দাজ’-এ নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী কিংবা ‘বাঘা যতীন’-এ যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতো ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের পর, দেবের লক্ষ্য ছিল সমসাময়িক বাস্তব কোনও হিরোর গল্প বলা। করিমুল হকের জীবন সেই বিচারে এক অসাধারণ স্ক্রিপ্ট।
এই সিনেমাটি নিয়ে দেবের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে (Dev new film Bike Ambulance Dada):
* বাস্তবসম্মত অভিনয়: করিমুল হকের সাধারণ জীবনযাপন এবং সাদামাটা চালচলন পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে দেব নিজেকে আমূল বদলে ফেলছেন।
* আবেগের ছোঁয়া: এটি কেবল একটি বায়োপিক নয়, এটি মা-ছেলের সম্পর্কের এবং এক জেদি মানুষের লড়াইয়ের গল্প।
* মাটির টান: উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এবং ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক পরিবেশে সিনেমার শুটিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সিনেমাটিতে এক অনন্য ‘রিয়েলিস্টিক’ লুক দেবে।
‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’র ঘোষণা প্রমাণ করে দেয় যে, দেব বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ভালো সিনেমার গুণমান বজায় রাখতে কতটা মরিয়া।
সিনেমার সম্ভাব্য প্রভাব (Dev new film Bike Ambulance Dada)
টলিউড বিশ্লেষকদের মতে, করিমুল হকের জীবনকাহিনী নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক হতে পারে। কারণ, করিমুল হক কোনো নামী অ্যাথলিট নন, কোনো বড় রাজনীতিবিদ নন। তিনি সাধারণ এক মানুষ, যার কাছে মানুষের সেবাই পরম ধর্ম। তাঁর সেই ভাঙা বাইক আর হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জেদ এবার পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠবে দেবের হাত ধরে। দেবের এই নতুন রূপ দেখার জন্য এখন থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সিনেমা প্রেমীরা (Dev new film Bike Ambulance Dada)।
সাফল্যের শিখরে থেকেও কীভাবে মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের গল্প বলতে হয়, দেব আবারও তা প্রমাণ করতে চলেছেন। জয়তু করিমুল হক, জয়তু মেগাস্টার দেব!
